বিজেপি আর কত বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকবে?- দেশবাসীকে বড় কথা জানালেন অমিত শাহ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আগামী কমপক্ষে ৩০ বছর ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকবে। একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে কোনও দলের জয় তার কঠোর পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে। যদি কোনও দল দিনরাত পরিশ্রম করে এবং দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে, তাহলে জয় নিশ্চিত। আমি যখন বিজেপির সভাপতি ছিলাম, তখন বলেছিলাম যে বিজেপি ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ বছর কেটেছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “যে দল ভালো পারফর্ম করে, তারা জনগণের আস্থা অর্জন করে। কিন্তু যারা পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়, তারা এই আস্থা হারায়।”

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়ে বড় ঘোষণা

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজেপি শাসিত সব রাজ্য ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করবে। তিনি বলেন, “ইউসিসি বিজেপির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই একটি মূল এজেন্ডা। এটি কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলির সিদ্ধান্ত ছিল, যা কংগ্রেস ভুলে গেলেও আমরা ভুলিনি। আমরা বলেছিলাম ৩৭০ ধারা বাতিল করব, তা করেছি। অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি করব, তাও করেছি। এখন ইউসিসি বাকি আছে, এটাও আমরা করে ছাড়ব।”

শাহ জানান, উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যে ইউসিসি কার্যকর করার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে। গুজরাত এর জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। তিনি বলেন, “এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিজেপি শাসিত সব রাজ্য তাদের সুবিধামতো এটি বাস্তবায়ন করবে।”

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি প্রসঙ্গে

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ বলেন, “ভারতের প্রধান বিচারপতি এই বিষয়টি বিবেচনা করেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সহযোগিতা করছি। প্রধান বিচারপতির গঠিত কমিটির রিপোর্টের জন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত।”

আরএসএস-এর ভূমিকা প্রসঙ্গে

মোদী সরকারের কাজে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) হস্তক্ষেপ করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ স্পষ্ট করে বলেন, “বিজেপির কাজে আরএসএস-এর কোনও হস্তক্ষেপ নেই। গত ১০০ বছর ধরে আরএসএস দেশপ্রেমিক তৈরি করে আসছে। আমি নিজে আরএসএস থেকে শিখেছি কীভাবে দেশপ্রেমকে সবকিছুর উপরে রাখতে হয়। হস্তক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না।”

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার উন্নতি

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শাহ জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন—নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বে বিদ্রোহ। তিনি বলেন, “গত ১০ বছরে এই তিনটি অঞ্চলে ১৬,০০০ যুবক আত্মসমর্পণ করেছে। শান্তি ফিরিয়ে আনা আমার কর্তব্য। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার, আর আমারও তাই। এই সমস্যাগুলির কারণে ওই অঞ্চলগুলিতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।”

অমিত শাহের এই বক্তব্যে বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার পরিকল্পনা এবং ইউসিসি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডার প্রতি তাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়েছে। তবে, এই দাবিগুলি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা সময়ই বলবে।