মিয়ানমারে জুমার নামাজের সময় ভূমিকম্প, মসজিদ ধসে নিহত অন্তত ২০ জন

শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে কেঁপে উঠেছে থাইল্যান্ড, ভারত এবং বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলো। এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারে অসংখ্য অবকাঠামো ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২৫ জন এবং থাইল্যান্ডে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া থাইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে অন্তত ৪৩ জন আটকে পড়েছেন।
মিয়ানমারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বার্তাসংস্থা আনাদোলু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খিত তিতের বরাতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে মান্দালয় প্রদেশের ফো শিং মসজিদ ধসে পড়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলে আরও তিনটি মসজিদ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মসজিদ ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন উদ্ধারকর্মী বলেন, “নামাজের সময় মসজিদটি ধসে পড়ে। তিনটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। অনেকে আটকে আছেন। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফো শিং মসজিদও আর নেই।”
এছাড়া মান্দালয়ের ঐতিহাসিক আভা সেতু এবং মান্দালয় প্রাসাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুয়াঙ্গো সিটির একটি মঠ ধসে পাঁচজন উদ্বাস্তু শিশু নিহত হয়েছে, যারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৭ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ৬.৪। স্থানীয় সময় দুপুর ১২:৫০ মিনিটে সাগাইং শহরের ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।
থাইল্যান্ডে নির্মাণাধীন ভবন ধস
মিয়ানমারের এই ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও প্রভাবিত করেছে। ব্যাংককে একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনটি খাড়াখাড়িভাবে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ভবনটিতে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এর মধ্যে সাতজন বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তবে ৪৩ জন আটকে রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চলছে।
আঞ্চলিক প্রভাব
মিয়ানমারের এই ভূমিকম্পের কম্পন ভারত, বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় কম্পনের খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এই দেশগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম
মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ শুরু করেছে। মিয়ানমারের সামরিক সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। থাইল্যান্ডেও ব্যাংককের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্যোগপ্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ভূমিকম্প গত দুই দশকে মিয়ানমারে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বিবেচিত হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনও স্পষ্ট না হলেও, মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু