সিবিআইকে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ: নির্যাতিতার ধর্ষণ নাকি গণধর্ষণ? ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের উত্তর জানতে চান বিচারপতি

২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট রাতের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে চলছে তীব্র শুনানি। এই ঘটনায় সিবিআই একটি রিপোর্ট পেশ করেছে, যেখানে তারা দাবি করেছে যে, নির্যাতিতার সঙ্গে একক ধর্ষণ হয়েছে, গণধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষত ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের বিষয়ে, এবং নির্দিষ্টভাবে জানাতে বলেছেন, কতজনের ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হয়েছে।
শুক্রবারের শুনানিতে বিচারপতি ঘোষ প্রশ্ন করেন, “ডিএনএ প্রোফাইলিং কি এক জনের হয়েছে? নাকি একাধিক জনের?” সিবিআই অবশ্য কিছুটা অস্বচ্ছভাবে উত্তর দেয়, তবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পরবর্তী শুনানির দিন দিতে হবে।
সিবিআই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত তিন মাসে তারা একাধিক কল রেকর্ড এবং ২৪ জনের বয়ান সংগ্রহ করেছে। এছাড়া, বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করেছে, এই অপরাধের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সঞ্জয় রাই ছাড়া অন্য কাউকে দোষী প্রমাণ করার কোনো তথ্য এখনও হাতে আসেনি।
তবে, বিচারের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য আদালত সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইলিং-এর বিষয়ে স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করে। আদালতের প্রশ্নের উত্তরে সিবিআই আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযুক্তের পাশাপাশি অন্যদের পলিগ্রাফ টেস্টও করা হয়েছে, তবে নাম প্রকাশে কোনো সমস্যা হতে পারে বলে তিনি তা খোলসা করতে চাননি।
এদিকে, সিবিআই জানিয়েছে, তারা ফরেনসিক রিপোর্ট এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তৈরি ১৪ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করেছে, যা তদন্তের সব দিক খতিয়ে দেখছে। তবে, বিকৃত তথ্যের সম্ভাবনা এবং তথ্য লোপাটের বিষয়টিও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছে সিবিআই।
এইসব তদন্তের পাশাপাশি, হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানতে চায়, তদন্তের পরিমাণ কোথায় থেমেছে এবং গণধর্ষণের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিনা। পরবর্তী শুনানি উপলক্ষে সিবিআইকে দেওয়া এই নির্দেশ আদালতের তদন্তের সঙ্গে আরও সুনির্দিষ্ট হয়ে উঠবে, যেহেতু এই মামলার পেছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের পটভূমি রয়েছে।
আদালত আগামী শুনানির দিন সিবিআইকে এই সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে বলেছে, যা তদন্তে আরও প্রগতি সাধন করবে।