সেলুলার জেলে উল্লাস্কর, বারীনের মূর্তি নেই, “বাংলা বিরোধী মনোভাব” বলে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ TMC-র

কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক রাজ্যসভায় জানিয়েছে, আন্দামান সেলুলার জেলে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী উল্লাসকর দত্ত এবং বারীন ঘোষ (বারীন্দ্রকুমার ঘোষ) এর কোনও মূর্তি নেই। পাশাপাশি, তাদের মূর্তি স্থাপনের জন্য ভবিষ্যতে কোনও পরিকল্পনাও নেই। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং বাংলা বিরোধী মনোভাব হিসেবে আক্রমণ করেছে।

তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ১৩ মার্চ রাজ্যসভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন এবং তার পরেই কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। ঋতব্রত এর প্রতিবাদে বলেন, “কেন্দ্র সরকার বাঙালি বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত ও বারীন ঘোষকে কীভাবে দেখছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। এটি আবারও বাংলা-বিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন।”

ঋতব্রত আরও বলেন, “আন্দামান সেলুলার জেলের প্রতিটি ইট এবং কুঠুরিতে বাংলার বিপ্লবীদের বীরত্বগাথা লেখা রয়েছে। তবুও কেন্দ্র এই জায়গাটিকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেনি।” তিনি এই ঘটনাকে ‘বাংলার প্রতি চরম অপমান’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

১৯০৮ সালে আলিপুর বোমা মামলায় উল্লাসকর দত্ত ও বারীন ঘোষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, পরে তাদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং আন্দামানের সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের উপর অত্যাচারের নানা গল্প জানা যায়। ঋতব্রত বলেন, “উল্লাসকর দত্তকে সবচেয়ে নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। বিদ্যুৎ ছিল না, কলকাতা থেকে ব্যাটারি এনে তাকে বছরের পর বছর বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। এছাড়া, বারীন ঘোষ ১৯১৫ সালে সেলুলার জেল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন, যা তখন প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু পরে ধরা পড়ে যাওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছর নিঃসঙ্গ কারাবাসে রাখা হয়।”

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেলুলার জেলের অন্যতম বন্দি বীর সাভারকরের প্রচার করেছে, তবে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান প্রচার করা হয়নি।

তৃণমূল সাংসদ ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় সেলুলার জেলে বন্দি বিপ্লবীদের বিষয়ে একটি প্রশ্ন তোলেন। তার জবাবে, কেন্দ্র জানায় যে ১৯০৯ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে সেলুলার জেলে বন্দি ৫৮৫ জন বিপ্লবীর মধ্যে ৩৯৮ জন, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ বন্দি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার।

তৃণমূলের এই অভিযোগে সেলুলার জেলের ইতিহাস ও বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান নিয়ে কেন্দ্রের উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।