মালদার মোথাবাড়িতে তাণ্ডব, হঠাৎ কেন অশান্ত হল বাংলার এই জনপদ?

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মোথাবাড়ি অঞ্চলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছে উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনা। দুষ্কৃতীরা একের পর এক দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতেও হামলা করেছে। অভিযোগ, বুধবার রাতে মসজিদের সামনে আতশবাজি ফাটানোর ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই বিক্ষোভের মধ্যেই কয়েকশো লোক রাস্তায় নেমে তাণ্ডব শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে মোথাবাড়িতে একটি মসজিদের সামনে আতশবাজি ফাটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভ চলাকালীন জনতার একাংশ হিংস্র হয়ে ওঠে এবং দোকানপাট ও গাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে তাণ্ডবের চিত্র

সামাজিক মাধ্যমে মোথাবাড়ির তাণ্ডবের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, লাঠি হাতে একদল উন্মত্ত জনতা রাস্তায় নেমে দোকান ও গাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার রাতের ঘটনার কথা জানা সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

হিন্দুদের টার্গেট করার অভিযোগ

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মোথাবাড়িতে বেছে বেছে হিন্দুদের দোকানপাটে হামলা করা হয়েছে। এক্স-এ তিনি লেখেন, “মোথাবাড়িতে হিন্দুদের মালিকানাধীন দোকানগুলিতে হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। দোকান মালিকদের কোনও প্রকার উস্কানি ছাড়াই ভাঙচুর করা হয়েছে। শুধুমাত্র হিন্দুদের মালিকানাধীন দোকানগুলিকেই বেছে বেছে টার্গেট করেছে।” তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপের জন্য সহযোগিতাও চেয়েছেন।

একইভাবে, বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, “সংখ্যালঘু মুসলিমদের তোষণ করতে করতে রাজ্যের ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরির গোপন অভিসন্ধি ক্রমশ সফল করে তুলছেন। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে হিন্দুদের ৬০-৭০টি দোকান ভেঙে লুঠ করা হয়েছে, হিন্দুদের ঘরবাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে এবং মূল রাস্তায় দখল নিয়ে যথেচ্ছাচারে গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুলিশ এই হামলা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য প্রয়োজন।”

পুলিশের বক্তব্য

মালদা জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। জনসাধারণের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছি।” তবে, এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

রাজনৈতিক তরজা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।