অক্সফোর্ডে মমতার ভাষণ, বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা দেবাংশুর

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় তিনি হোটেল থেকে রওনা দেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাষণ মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। লন্ডনের বুকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক অনন্য মুহূর্ত তৈরি হলেও, রাজনীতি সেখানে গিয়েও তাঁকে ছাড়েনি।
ভাষণ চলাকালীনই দেখা যায়, সামনের সারিতে বসে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, আর ঠিক পেছনে পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে একদল বিক্ষোভকারী। মূলত কেন্দ্রীয় ছাড়পত্র নিয়ে লন্ডনে যাওয়া ভারতীয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধেই এই বিক্ষোভ। তবে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনার মধ্যেও সংযম দেখান মুখ্যমন্ত্রী। পোস্টার হাতে স্লোগান দেওয়ার মধ্যেই তিনি বলেন, “ধন্যবাদ, আমাকে এইভাবে স্বাগত জানানোর জন্য। গণতন্ত্রে মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে, আপনারা নিশ্চয়ই নিজেদের দাবিগুলো জানাতে পারেন।”
এই ঘটনার পরপরই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মাঝে পোস্টার হাতে ঢুকে পড়া বিক্ষোভকারীদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূলের একাংশ। তৃণমূলের আইটি সেলের সভাপতি দেবাংশু ভট্টাচার্য তাঁদের চিহ্নিত করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি সিপিএমকে কটাক্ষ করে লেখেন, “সিপিএম কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি ভারত-বিরোধী, বঙ্গ-বিরোধী, মানবতাবিরোধী ও অসভ্য শক্তির প্রতীক।”
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংযমের প্রশংসা করে তিনি আরও লেখেন, “দিদিকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই অসীম ধৈর্য দেখানোর জন্য। আপনার জায়গায় আমি থাকলে পারতাম না। আপনি হাসিমুখে যে জুতোগুলো ওদের মুখে মেরেছেন, সেই প্রত্যেকটা জুতোর বাড়ি ওদের বাংলার নেতাদের মুখেও পড়েছে।”
অন্যদিকে, এই বিক্ষোভের দায় স্বীকার করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন SFI-এর ব্রিটেন শাখা। সংগঠনটি নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানায়, “অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছি আমরা। কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের সুযোগ না দিয়ে, সেখানে পুলিশ ডাকা হয়েছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। লন্ডনের মাটিতেও যে বাংলা রাজনীতির ছায়া স্পষ্ট, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল।