অক্সফোর্ডে মমতার বক্তৃতায় SFI ছাত্রদের বিশৃঙ্খলা, ‘বাংলায় আসুন…’ পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হঠাৎ বিক্ষোভের মুখে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একজন দক্ষ রাজনীতিবিদের মতো ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে নেন তিনি। বাংলার উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে কথা বলার সময় একদল পড়ুয়া ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করে এবং আরজি কর ও টাটা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে ধরে। মমতা সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বক্তৃতার মাঝে বিশৃঙ্খলা
মুখ্যমন্ত্রী যখন বাংলায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও রাজ্যের উন্নয়নের কথা বলছিলেন, তখনই বিক্ষোভ শুরু হয়। একজন শ্রোতা প্রশ্ন করেন, কোন কোন সংস্থা কত কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য কী? মমতা তৎক্ষণাৎ উত্তর দিতে শুরু করেন। এরপর কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকের নির্যাতন ও মৃত্যুর ইস্যুতে তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিক্ষোভকারীরা হইচই শুরু করলেও তিনি শান্তভাবে বলেন, “বিষয়টি বিচারাধীন, মামলাটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রয়েছে।”

অতীতের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ
কটাক্ষ ও প্রশ্নের জবাবে মমতা ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার একটি পুরনো ছবি তুলে ধরেন। ছবিতে তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। তিনি বলেন, “বিরোধী থাকাকালীন আমাকে এভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি লড়াই করেছি, লড়ে যাব।” বিক্ষোভকারীদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে তিনি হাসিমুখে বলেন, “ভাই, এরকম করবেন না। আমি সকলকে ভালোবাসি। এটাকে রাজনীতির মঞ্চ করবেন না। বরং বাংলায় আসুন, আপনার দলকে শক্তিশালী করুন।”

হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
একজন শ্রোতা বাংলায় হিন্দুদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললে মমতা স্পষ্ট জানান, “আমি সকলের জন্য ভাবি—হিন্দু এবং মুসলিম, দুইয়ের জন্যই।” তিনি বিক্ষোভকারীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “বাংলায় আসো, তোমাদের দলকে শক্তিশালী করো। আমি সব প্রশ্নের উত্তর দেব। আগে আমার এই ছবি দেখো, কীভাবে আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল।”

বিক্ষোভের মূলে SFI-UK
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন SFI-UK এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়। তারা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ তোলে। ঘটনার দায় স্বীকার করে তারা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলে, “আমরা বাংলার দুর্নীতিগ্রস্ত ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি।”

মমতার পাল্টা জবাব
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “আমাকেও কথা বলার সুযোগ দিন। আপনারা আমাকে অপমান করছেন না, আপনাদের প্রতিষ্ঠানকে অসম্মান করছেন।” তিনি তাদের ‘অতি-বামপন্থী ও সাম্প্রদায়িক বন্ধুরা’ বলে কটাক্ষ করেন। বক্তৃতার শেষে তিনি বলেন, “দিদির কোনও আপত্তি নেই। দিদি প্রতি বছর এখানে আসবে এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো লড়াই করবে। আমাকে কাপড় কাচতে বা রান্না করতে বললেও করব, কিন্তু মাথা নত করতে বললে করব না। আমি শুধু জনগণের কাছে মাথা নত করি।”

টাটা নিয়ে প্রশ্ন
প্রশ্নোত্তর পর্বে টাটা গ্রুপের সিঙ্গুর প্রকল্প ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে। ২০০৮ সালে মমতার নেতৃত্বে আন্দোলনের পর টাটা ন্যানো প্রকল্প সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে নেয়। জবাবে তিনি ফের ৯০-এর দশকের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন।

ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ
ব্যবসায়ী করণ বিলিমোরিয়া বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। তবে মমতা কোভিড-পরবর্তী অস্থিরতার কথা তুলে সংশয় প্রকাশ করেন।

সমাপ্তি: বারবার বাধা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নেন। এই ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাহসের প্রমাণ দেয়।