মেনে নেয়নি পরিবার! শৈশব থেকে বার্ধক্যেও যেন উপচে পড়ছে প্রেম, ৬৪ বছর পর হ্যাপি এন্ডিং পেল যুগল

সমাজের বাধা, পরিবারের অমত, তবুও নিজেদের ভালোবাসা থেকে পিছপা হননি হর্ষ এবং মৃণু। ৬৪ বছর আগের সেই পালিয়ে বিয়ে করা যুগল আজ শেষমেশ তাদের স্বপ্নের বিয়ে সম্পন্ন করলেন। একে অপরকে ছোটবেলা থেকে ভালোবাসা, কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে আন্তঃবর্ণ বিয়ের ধারণা ছিল অত্যন্ত অপ্রচলিত। তবুও মনের আবেগে তারা একে অপরের হাত ধরে এক নতুন জীবনের শুরু করেছিলেন।

তাদের প্রেমের গল্প তখনও সবার কাছে ছিল নিষিদ্ধ। মৃণু ছিলেন জৈন এবং হর্ষ ছিলেন ব্রাহ্মণ। প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল নিজেদের হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে। কিন্তু সম্পর্ক প্রকাশ পেতে দেরি হয়নি, তখন মৃণুর পরিবার সম্পর্কটি মেনে নিতে অস্বীকার করে। তবুও সাহসী মৃণু এবং হর্ষ সিদ্ধান্ত নেন, একসঙ্গে জীবন কাটাবেন, পরিণতি যা-ই হোক। এক বন্ধুর কাছে একটি চিরকুট রেখে তাঁরা পালিয়ে যান, যেখানে লেখা ছিল, “আমি আর ফিরে আসছি না।”

বহু বছর কেটে গেছে, সেই প্রথমে পালিয়ে যাওয়া যুগল এখন সুখী সংসার পেয়েছেন। তাদের সন্তান, নাতি-নাতনিরা অবশেষে তাদের স্বপ্নের বিয়ে পূর্ণ করল। ৬৪ বছর পর, তাদের বিয়ের ভিডিয়ো ‘দ্য কালচার গালি’-র ইনস্টাগ্রাম পেজে পোস্ট করা হয়, যা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

এখন, হর্ষ এবং মৃণুর জন্য ৬৪ বছর পর তাদের চাওয়া সেই ‘ধুমধাম’ বিয়ে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। হর্ষ এবং মৃণু এখন সন্তুষ্ট এবং সুখী জীবনে রয়েছেন, কিন্তু এক সময়ের সেই বাধার মুখে তাদের প্রেমের যাত্রা সহজ ছিল না।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by The Culture Gully™️ (@theculturegully)

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এই ভিডিওতে লেখা ছিল, “হর্ষ এবং মৃণু ছিল ভিন্ন ধর্মের ছোটবেলার বন্ধু। পরিবার তাঁদের বিয়ের বিরুদ্ধে ছিল, কারণ ১৯৬০-এর দশকে প্রেমের বিয়ে চলছিল না। তাঁরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে এবং একসঙ্গে জীবন গড়ে তোলে। আজ, তাঁদের পরিবার, নাতি-নাতনিরা, সন্তানরা তাঁদের সুন্দর অনুষ্ঠান করে বিয়ে দিয়েছে। মৃণু এবং হর্ষের স্বপ্ন ছিল এই বিয়ে।”

এই দম্পতির প্রতি অনেকেই তাদের প্রশংসা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “খুব সুন্দর! একজন জৈন এবং অন্যজন ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও তারা বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিল – আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে আন্তঃবর্ণ বিবাহের জন্য এখনও কতটা সাহসের প্রয়োজন।” অন্য একজন বলেছেন, “এই বিয়ে যে কোনও হাই-প্রোফাইল সেলিব্রিটি অনুষ্ঠানকে ছড়িয়ে দিয়েছে। কী অসাধারণ প্রেমের গল্প!”

মৃণু এবং হর্ষের এই চমৎকার প্রেমের গল্প এক সত্যিকারের ভালোবাসার উদাহরণ, যা প্রতিটি চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে গেছে।