‘বাংলায় বেকারত্ব ৪৬% হ্রাস পেয়েছে, এটা বড় সাফল্য নয়?’- লন্ডন বৈঠকে বললেন মমতা

লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে বিশেষ শিল্প সম্মেলনে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই সম্মেলনে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। শিল্পপতিদের সামনে তিনি বাংলার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, পর্যটন ও পরিকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকগুলি:
🔹 বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন:
“জঙ্গল, পাহাড়, সমুদ্র—সবই রয়েছে বাংলায়। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন? আমরা সেই রয়্যাল বেঙ্গলের মতোই লড়ছি। বাংলার পর্যটন অত্যন্ত উন্নত—দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক থেকে সমুদ্র পর্যন্ত সবই আছে।”

🔹 স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো:
“স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে গরিব মানুষের সাশ্রয়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। আগে ১২টি মেডিক্যাল কলেজ ছিল, এখন সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৮। মাল্টি-সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সংখ্যা এখন ৩২। এ ছাড়া বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগের সরকারের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। দেউচা পচামির কয়লা উত্তোলন শুরু হলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের কোনো সমস্যা থাকবে না।”

🔹 শিল্প ও বিনিয়োগ:
“বাংলায় ৬টি ইকোনমিক করিডর তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা উত্তোলন শিল্প গড়ে উঠছে বীরভূমের দেউচা পচামিতে, যেখানে প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। যারা বাংলায় বিনিয়োগ করবেন, তারা কখনও লোকসানে পড়বেন না।”

🔹 সামাজিক প্রকল্প ও দারিদ্র দূরীকরণ:
“২০১১ সালে বাংলায় ৫৭.৬% মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে ছিলেন, এখন তা কমে ৮.৬% হয়েছে। বাংলার ৯৪টি সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক, পড়ুয়া, মহিলা—সবাই উপকৃত হচ্ছেন।”

🔹 কর্মসংস্থান:
“২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে বাংলায় বেকারত্ব ৪৬% হ্রাস পেয়েছে। যখন বাকি দেশজুড়ে বেকারত্ব বাড়ছে, বাংলায় তা কমছে।”

🔹 ক্রীড়া ও সংস্কৃতি:
“মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গল, মহামেডান—সব ক্লাবই ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে। বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের গর্ব। কলকাতায় ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ফুটবল স্কুলও খুলছে।”

🔹 যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক:
“ইউকে-র বন্ধুদের বলব, কলকাতা-লন্ডন সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করুন। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, প্রতিটি সিট পূর্ণ থাকবে। আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য ফুয়েল ট্যাক্স ছাড়-সহ অতিরিক্ত সুবিধা দেব।”

বাংলার উন্নয়ন, শিল্প সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লন্ডনের শিল্প মহলে আলোড়ন তুললেন। এখন দেখার, ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা কতটা আগ্রহ দেখান!