পাহাড়ে নেপালি ভাষা বাধ্যতামূলক: শিলিগুড়ির দেখানো পথেই হাঁটল জিটিএ

শিলিগুড়ি পুরনিগমের পথ অনুসরণ করেই এবার গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) পাহাড়ের সমস্ত দোকান, অফিস, হোটেল, হোমস্টে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির সাইনবোর্ডে নেপালি ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই কার্যকর হবে।
সম্প্রতি শিলিগুড়ি পুরনিগম, বাংলায় সাইনবোর্ডের বাধ্যতামূলক বিধির মাধ্যমে সব প্রতিষ্ঠানে বাংলার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এবার জিটিএও পাহাড়ে নেপালি ভাষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার সমস্ত প্রতিষ্ঠান, হোটেল, হোমস্টে, দোকান ও সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সাইনবোর্ডে নেপালি ভাষা প্রাধান্য দিয়ে লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জিটিএ’র তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত সাইনবোর্ড, পোস্টার, ব্যানারে প্রথমে নেপালি ভাষা থাকতে হবে, তারপর অন্যান্য ভাষা লেখা যেতে পারে। এতে পাহাড়ের গোর্খা সম্প্রদায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, যাদের অধিকাংশই নেপালি ভাষায় কথা বলেন। তবে, জিটিএ আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই উদ্যোগে পর্যটকদের কোনো সমস্যা হবে না, কারণ পাহাড়ে পর্যটকদের আগমন নিয়মিত থাকেই এবং তারা সাধারণত অন্যান্য ভাষায়ও সহযোগিতা পাবেন।
এই উদ্যোগটি পাহাড়বাসীদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি, শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই এটি স্বাগত জানাচ্ছে। কার্শিয়াং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনু ছেত্রী প্রধান বলেন, “পাহাড়ের সমস্ত হোটেল, হোমস্টে, দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেপালি ভাষায় সাইনবোর্ড লেখার নির্দেশিকাটি জারি করা হয়েছে এবং এটি পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকেও চালু করা হয়েছে।”
জিটিএ’র মুখপাত্র এসপি শর্মা জানিয়েছেন, “নেপালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি রয়েছে এবং এটি গোর্খাদের আবেগের বিষয়। এই উদ্যোগটি আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং দ্রুত এটি কার্যকর হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলো নজরদারি করবে যাতে এটি সঠিকভাবে প্রয়োগ হয়।”
পাহাড়ের বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটা পাহাড়ের মানুষের জন্য একটি বড় সুবিধা। বিশেষ করে প্রবীণ মানুষদের জন্য যারা ইংরেজি পড়তে পারেন না, তাদের জন্য এটি একেবারে উপকারি হবে। আমরা এই সিদ্ধান্তকে খুবই ভালভাবে নিচ্ছি।”
এখন, জিটিএ’র এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাহাড়ে নেপালি ভাষার স্থান আরও দৃঢ় হবে, যা স্থানীয়দের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি এবং পাহাড়ে বসবাসকারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করবে।