“৮০ শতাংশ নির্দোষ…”, জেলে থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে রিয়া

২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর, গোটা ভারতকে হতভম্ব করে দিয়েছিল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। একজন তরুণ অভিনেতা, যার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ছিল, সে কীভাবে নিজের জীবন শেষ করতে পারে? সুশান্তের মৃত্যুর পর শোরগোল ওঠে এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে খুন, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও পারিবারিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীসহ তার পরিবারও বিপদে পড়েছিল।
কিন্তু গত পাঁচ বছরে বহু পালাবদলের পর, অবশেষে ২০২৫ সালে আদালত রিয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পেছনে রিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না, বলে দাবি করেছেন আদালত। এই ক্লিনচিট পাওয়ার পর, রিয়া ও তার ভাই শৌভিক চক্রবর্তী নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং পরিবারে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের কথা শেয়ার করেছেন।
গত বছর হিউম্যানস অফ বম্বে-এর সাথে একটি কথোপকথনে রিয়া জানিয়েছিলেন, জেলে থাকার অভিজ্ঞতা কতটা ভয়ঙ্কর ছিল। তিনি বলেছিলেন, “জেল আসলে এটি অন্য এক জগত, যেখানে কোনও সমাজ নেই। সেখানে সবাই একমাত্র সংখ্যা মাত্র।” রিয়া তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “জেলে যে কয়েদিরা থাকে, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নির্দোষ। অন্তত আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে।”
রিয়া আরও জানান, “আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাদের বেশিরভাগই বলেছিল তারা অপরাধ করেনি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বক্তব্য ছিল যে তারা আত্মরক্ষার জন্য বা অন্য কোনও কারণে অপরাধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ইচ্ছাকৃতভাবে নয়।”
জেলে থাকা অবস্থায় রিয়া বলেছিলেন, “এটা এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা ছিল। এমন একটি পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে আপনাকে বাঁচার রসদ খুঁজে নিতে হয়। আপনি সারাদিন কিছু করলেন না, তাই এক একটা দিন কেমন যেন এক বছরের মতো লাগে। প্রথম প্রথম ওই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সত্যিই কঠিন ছিল। একটা গভীর হতাশা এবং অন্ধকার অনুভব হত।”
তিনি আরও বলেন, “যারা জেলে থাকে, তারা বিশ্বাসই করতে পারে না যে তারা সেই পরিবেশে থাকতে পারে। তবে আমি বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলাম যে, যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তা প্রমাণ করতে চার বছর লেগে যায়। আর নির্দোষ ব্যক্তিরাও প্রায় ৭ থেকে ১০ বছর ধরে জেলে থাকতে হয়।”
এদিকে, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডের অন্ধকার দিকগুলো একে একে উন্মোচিত হয়। তার মৃত্যুর ৫ বছর পর, অবশেষে এটি প্রমাণিত হয় যে সুশান্ত আত্মহত্যা করেছিলেন, তাকে খুন করা হয়নি। তবে, রিয়া চক্রবর্তীর জন্য এই পাঁচ বছর ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। এই সময়ের মধ্যে তিনি শুধু সামাজিকভাবে নয়, পারিবারিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এখন, রিয়া চক্রবর্তী তাঁর নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৫ বছর পর, এই মামলার নিষ্পত্তি এবং সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর, তিনি নিজেকে নতুন করে তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছেন।