“সরকার কি ঘুরপথে নির্বাচনী বন্ড আবার চালু করতে চায়?” নতুন বিলের ধারা তুলে প্রশ্ন মহুয়া মৈত্রর

নির্বাচনী বন্ড নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রথাকে বাতিল করলেও, সরকার কি ঘুরপথে সেই বিতর্কিত বন্ড আবার চালু করতে চায়? এমন প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সোমবার লোকসভায় অর্থবিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রের দিকে ফের নির্বাচনী বন্ডের তির ছুঁড়ে দেন তিনি।
নতুন অর্থবিল নিয়ে আলোচনায় মহুয়া প্রশ্ন তোলেন, “নতুন আয়কর আইনে যে ধারাগুলি উল্লেখ রয়েছে, সেই একই ধারা নির্বাচনী বন্ডেও ছিল।” এরপর তিনি বলেন, “এটা খুব সহজেই স্পষ্ট যে শাসকদল হয়তো পিছনের দরজা দিয়ে তাদের পছন্দের নির্বাচনী বন্ড পদ্ধতিকে আবার ফিরিয়ে আনতে চাইছে।”
মহুয়া আরও বলেন, নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে কীভাবে বিজেপি লাভবান হয়েছে, সেই নিয়েও তিনি এক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, “লোকসানে চলা ৪৩৪ কোটি টাকার সংস্থাগুলি বিজেপিকে টাকা দিয়েছে। এছাড়া ৪১টি তদন্তাধীন সংস্থা আড়াই হাজার কোটি টাকা বিজেপিকে দিয়েছে। আরও ৩০টি সংস্থা, যারা তদন্তের আওতায় রয়েছে, তারা ৩৩৫ কোটি টাকা বিজেপিকে দিয়েছে।”
এছাড়াও, মহুয়া ইডি ও সিবিআইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই সংস্থাগুলি যেন টাকা তোলার সংস্থায় পরিণত না হয়।” তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে একটি আর্জিও রাখেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরই সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী বন্ড পদ্ধতিকে বাতিল করে। সেই সময় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, নির্বাচনী বন্ড প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার পর কোন দল কত টাকা পেয়েছে, সেই রিপোর্ট স্টেট ব্যাঙ্ককে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে বিজেপি, আর তার পরেই রয়েছে তৃণমূল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে পায় তৃণমূল।