নেই রেজিস্ট্রেশন, TMC-র স্টিকারে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘নিষিদ্ধ’ টোটো, অভিযোগ BJP-র

ধূপগুড়ি এলাকার রাস্তায় চলতে থাকা একাধিক নিষিদ্ধ টোটো নিয়ে চরম অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির ধূপগুড়ি বিধানসভার কমিটির আহ্বায়ক চন্দন দত্ত। তাঁর দাবি, এই টোটোগুলি শাসকদলের প্রতীক ব্যবহার করে বেআইনি ভাবে চলাচল করছে এবং সেগুলির সামনে লাগানো রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাসফুলের স্টিকার। এর মাধ্যমে শাসকদল চাঁদা তুলে নিজেদের পকেট ভরাচ্ছে।
চন্দন দত্ত অভিযোগ করেন, ‘‘এটি তৃণমূলের সংগঠিত তোলাবাজি সিস্টেমের উদাহরণ। তৃণমূলের প্রতীক ব্যবহার করেই বেআইনি টোটো চালানো হচ্ছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ি এলাকায় শাসকদলের প্রতীকে সজ্জিত বেশ কিছু নিষিদ্ধ টোটো যাতায়াত করছে। যেগুলির রেজিস্ট্রেশন নেই, কিন্তু সেগুলি ছাড়পত্রহীনভাবে চলাচল করছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই টোটোগুলি অবৈধ, কারণ এগুলির কোনও সরকারি ট্র্যাকিং কোড নেই এবং ই-রিকশা ছাড়া রাজ্য ও জাতীয় সড়কে অন্য কোনো টোটো চলাচলের অনুমতি নেই।
তবে এই সব বাধা সত্ত্বেও, শাসকদলের প্রতীকের উপস্থিতি তাদের জন্য যেকোনো সমস্যার সৃষ্টি করছে না বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রতীক থাকার কারণে পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো তৎপরতা নেওয়া হচ্ছে না।
শাসকদলের শ্রমিক সংগঠন INTUC-এর জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি তপন দে এই অভিযোগগুলিকে নস্যাৎ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ই-রিকশাচালকদের এক ছাতার তলায় আনার জন্য রাজ্য সংগঠন নেতৃত্বের কাছে আবেদন জমা হয়েছে। তবে এখনও এ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। যদি কেউ দলের প্রতীক বা ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কাজ করেন, তবে তার দায় তার ব্যক্তিগত।’’
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে, সংগঠন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
এই পরিস্থিতি ধূপগুড়ির রাজনীতির এক নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে। শাসকদলের প্রতীক ব্যবহার করে কীভাবে বেআইনি টোটো চলাচল করছে এবং তার সঙ্গে চাঁদাবাজির সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠে আসছে। যদিও শাসকদল এই সব অভিযোগ নাকচ করছে, তবে এই বিষয়টি জলপাইগুড়ি অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।