তুলসির কথাই প্রমাণ করল বাংলাদেশ, হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, আঙুল উঠলো BNP-র দিকে

কিছুদিন আগে ভারতে এসে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ইস্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মার্কিন ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসি গ্যাবার্ড। কিন্তু তাঁর সেই মন্তব্যে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিল মুহাম্মদ ইউনুসের সরকার। ঢাকা থেকে তুলসির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ঢাকার ফরাসি দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের দিয়ে তুলসির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি পোস্ট করানো হয়। এর জেরে সেই অভিযুক্ত বাংলাদেশিদের চাকরি চলে যায়। এত কিছুর পরও ইউনুসের হাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আবারও বাংলাদেশে একটি হিন্দু পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে সন্দেহের আঙুল উঠেছে বিএনপির দিকে।

সম্প্রতি সিলেট শহরে একটি হিন্দু বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এই ঘটনায় শিলেট এয়ারপোর্ট থানায় এক বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী অসীম কুমার দাস জানিয়েছেন, সিলেট মহানগর মহিলা দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি জেসমিন বেগম ও তাঁর ভাই কামাল আহমেদ তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। বাড়িতে ইট ছোড়া হয়, হকিস্টিক ও কাঠের স্কেল দিয়ে অসীমবাবুর মা-বাবাকে মারধর করা হয় এবং বাড়ি খালি করার হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস দাবি করেছেন, তারা হিন্দু পরিবারের পাশে আছেন। তিনি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন।

এদিকে, শিলেট ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মিলন দাবি করেছেন, অসীমের বাড়িতে এর আগেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছেন এই বিএনপি নেত্রী। এর আগে অসীমবাবুর ঘর ভেঙে জায়গা দখল করেছিলেন বলেও অভিযোগ। এখন অসীমকে পুরোপুরি বাড়িছাড়া করতে তৎপর হয়েছেন তিনি। এছাড়া, চা বাগানের জমিতে বেআইনিভাবে দেওয়াল তোলার অভিযোগও রয়েছে এই নেত্রীর বিরুদ্ধে। চা বাগানের ম্যানেজার রিঙ্কু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, স্থানীয়দের নিয়ে সেই বেআইনি দেওয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পূজা উদযাপন ও ঐক্য পরিষদের নেতারা।

উল্লেখ্য, হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকেই দেশটিতে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠছে। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে মন্দির থেকে শুরু করে হিন্দু বাড়িঘরে ভাঙচুর চলছে। সেই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা থেকে বিএনপি-জামাত ‘আওয়ামি লীগের ষড়যন্ত্র’ দেখেছিল। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার থামেনি। ধর্মের নামে সংখ্যালঘুদের চাকরি থেকে জোর করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে হিন্দু ও বৌদ্ধদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু অত্যাচারে সেখানে অভিযুক্ত সেনাবাহিনীও। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা রাস্তায় নেমেছিল। ‘জুলাই বিপ্লবের’ ছাত্রনেতারাও ইসকনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সারজিস আলম সম্প্রতি চট্টগ্রামে ইসকন ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রাস্তায়ও মানুষ নেমেছিল। বাংলাদেশের মৌলবাদের বিরুদ্ধে এখানে স্লোগান উঠেছে। ভারত সরকারও সম্প্রতি একাধিক বিবৃতি দিয়ে ওপারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।