‘নো এসি ক্যাম্পেইন’ শুরু করছেন হায়দরাবাদের ক্যাব চালকরা! কীসের জন্য এই নিয়ম? জানতে বিস্তারে পড়ুন

হায়দরাবাদের ক্যাব চালকরা আজ থেকে ‘নো এসি ক্যাম্পেইন’ শুরু করেছেন। এই ক্যাম্পেইনের অধীনে, যতক্ষণ না যাত্রীরা অতিরিক্ত খরচ হিসেবে টিপ দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্যাবের এসি চালানো হবে না। এই প্রতিবাদের পেছনে মূল কারণ হল অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব এগ্রিগেটরদের জন্য একটি সার্বজনীন ভাড়া কাঠামো নির্ধারণ করতে সরকারের ব্যর্থতা।

তেলেঙ্গানা গিগ ও প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্যরা জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং অন্যান্য ব্যয়ের পরেও ক্যাব এগ্রিগেটরদের দেওয়া ভাড়া চালকদের জন্য যথেষ্ট নয়। একটি এসি ক্যাব চালানোর জন্য প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়ে ১৬ থেকে ১৮ টাকা, কিন্তু চালকরা পাচ্ছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা। এগ্রিগেটরদের চার্জ, ট্যাক্স এবং অন্যান্য খরচ কাটার পর চালকদের হাতে খুব কম টাকাই থাকে। অন্যদিকে, বাইক ট্যাক্সি বা অটো-রিকশার মতো এসি-বিহীন যানবাহনে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া অনেক বেশি।

তেলেঙ্গানা গিগ ও প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন বলেছেন, “ভাড়ার অ্যালগোরিদমে জ্বালানির বর্ধিত খরচ, অতিরিক্ত গরম এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের মতো বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয় না। এই সপ্তাহ থেকে কোনো ক্যাব চালকই এসি চালাবেন না, যতক্ষণ না যাত্রীরা স্বেচ্ছায় এই খরচ বহন করতে রাজি হন। আমাদের প্রধান দাবি হল প্রতি কিলোমিটারে একটি মান্য ভাড়া নির্ধারণ করা, যাতে সমস্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং চালকদের আয়ের সমস্যা না হয়। ধীরে ধীরে এই ক্যাম্পেইন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”

অনেক ক্যাব চালকই বলছেন, ক্যাব এগ্রিগেটরদের দেওয়া ভাড়া বাইক ট্যাক্সি বা অটো-রিকশার তুলনায় অনেক কম। এসি ব্যবহারের কারণে যে অতিরিক্ত খরচ হয়, তা ভাড়ায় অন্তর্ভুক্ত নেই। এর ফলে চালকদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল খরচ হয়, কিন্তু আয় হয় নগণ্য।

এই ‘নো এসি ক্যাম্পেইন’-এর অংশ হিসেবে হায়দরাবাদের ৫৮ হাজার ক্যাব চালক ইতিমধ্যেই এয়ারপোর্ট ট্রিপ বয়কট করেছেন। তারা বর্তমান ভাড়া কাঠামো নিয়ে অসন্তুষ্ট। চালকরা বহুবার এগ্রিগেটর কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে জানালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় শহরের নিত্যযাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

এই প্রতিবাদের ফলে হায়দরাবাদের যাত্রীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। গরমের মধ্যে এসি ছাড়া ক্যাবে যাতায়াত করা তাদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। অন্যদিকে, চালকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এখন দেখার বিষয়, সরকার এবং ক্যাব এগ্রিগেটররা এই সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়। যতক্ষণ না একটি সমাধান পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ হায়দরাবাদের যাত্রীদের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।