“দেউচা পাঁচামিতে বড়সড় দুর্নীতি হয়েছে”-ফাঁস করার হুঁশিয়রি শুভেন্দুর, নিশানায় শামিরুল-বিধান!

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার বীরভূমের রামপুরহাটে একটি প্রতিবাদ সভা থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির চেয়েও বড়সড় দুর্নীতি ঘটেছে বীরভূমের দেউচা পাঁচামি প্রকল্পে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, আগামী ২৯ মার্চ তিনি এই দুর্নীতির প্রমাণস্বরূপ ডকুমেন্ট প্রকাশ করবেন এবং শামিরুল ও বিধান রায়ের ভূমিকা ফাঁস করে দেবেন।

রামপুরহাটে প্রতিবাদ সভা

শুক্রবার রামপুরহাটের তারাপীঠ মহাশ্মশানে অবৈধ নির্মাণ, তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির দুর্নীতি এবং রাজ্য জুড়ে সনাতনী সমাজের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিজেপি একটি অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন করে। এই সভা থেকেই শুভেন্দু বলেন, “দেউচা পাঁচামিতে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির থেকেও বড়। আমি ২৯ মার্চ ডকুমেন্ট নিয়ে আসব, ২০টি জেরক্স করে সবার সামনে তুলে ধরব। শামিরুল ও বিধান রায় কী করেছে, তা ফাঁস করে দেব।”

দীঘার জগন্নাথ ধাম নিয়ে আক্রমণ

শুভেন্দু এদিন দীঘার জগন্নাথ ধাম প্রকল্প নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “অযোধ্যায় রামমন্দির হিন্দুরা নিজেদের অর্থে তৈরি করেছে, কোনও সরকারি টাকা লাগেনি। কিন্তু এখানে ২০০ কোটি টাকা সরকারি অর্থ খরচ করে জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টারকে মন্দির বলে চালানো হচ্ছে। সরকারি টাকায় মন্দির হয় না।” তিনি আরও ঘোষণা করেন, “২৯ মার্চ টিভির পর্দায় চোখ রাখবেন। সেদিন একটি বিরাট হিন্দু সম্মেলন হবে। এক লক্ষ হিন্দুর সমাবেশ করে সব ফাঁস করব।”

দেউচা পাঁচামি দুর্নীতি কী?

দেউচা পাঁচামি পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম কয়লাখনি প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, এই প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন শামিরুল ও বিধান রায় নামে দুই ব্যক্তি। তবে, তিনি এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ২৯ মার্চ তিনি যে ডকুমেন্ট প্রকাশের কথা বলেছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই অভিযোগ রাজ্য সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিজেপি এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামীর দিন

শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঁশিয়ারি এবং ২৯ মার্চের প্রতিশ্রুতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। তিনি যে হিন্দু সম্মেলনের কথা বলেছেন, তা কতটা সফল হয় এবং তাঁর প্রকাশ করা ডকুমেন্ট কী তথ্য বহন করে, তা নিয়ে সবার দৃষ্টি এখন ওই দিনের দিকে। দেউচা পাঁচামি দুর্নীতির অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা রাজ্য সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।