রাজ্যসভায় রানা সাঙ্গাকে দেশদ্রোহী বলায় বিতর্ক, বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া

সমাজবাদী পার্টি (এসপি) নেতা ও রাজ্যসভা সাংসদ রামজি লাল সুমনের একটি মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ১৬শ শতকের রাজপুত রাজা রানা সাঙ্গাকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি, যারা একে রাজপুত সম্প্রদায়ের অপমান বলে আখ্যায়িত করেছে।

সুমনের বিতর্কিত মন্তব্য:
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখার সময় রামজি লাল সুমন বলেন, “বিজেপি নেতারা প্রায়ই দাবি করেন যে মুসলিমদের মধ্যে বাবরের ডিএনএ রয়েছে, কিন্তু ভারতের মুসলিমরা বাবরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন না। আসলে, বাবরকে ভারতে নিয়ে এসেছিল রানা সাঙ্গা, যিনি বাবরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করার জন্যে। এই হিসেব অনুযায়ী, যদি মুসলিমরা বাবরের বংশধর হন, তবে আপনি রানা সাঙ্গার বংশধর—একজন দেশদ্রোহী।”

বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া:
বিজেপি সুমনের এই মন্তব্যকে সরাসরি রাজপুত সম্প্রদায়ের অপমান বলে আখ্যায়িত করেছে। বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সঞ্জীব বালিয়ান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “রাজপুতদের মহান যোদ্ধা রানা সাঙ্গাকে সংসদে দেশদ্রোহী বলা পুরো হিন্দু সমাজের জন্য অপমান। সমাজবাদী পার্টি এর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হবে।”

বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “কিছু লোক ইতিহাসের বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের মহিমান্বিত করার চেষ্টা করছে। ঔরঙ্গজেবের মতো শত্রুরা এখন নায়ক বানানোর চেষ্টা চলছে। আমরা কখনও বলেনি যে মুসলিমরা বাবরের বংশধর, ভারতের মুসলিমরা আমাদেরই অংশ।”

বিজেপি নেতা পিপি চৌধুরী আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “এমন মন্তব্য সংসদে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। রাজপুতদের বীর যোদ্ধা রানা সাঙ্গাকে নিয়ে এই মন্তব্যের কোনো স্থান নেই।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
রানা সাঙ্গা সিসোদিয়া বংশের শাসক ছিলেন এবং ১৫০৮ থেকে ১৫২৮ সাল পর্যন্ত মেওয়ার শাসন করেন। তিনি দিল্লি সুলতানদের বিরুদ্ধে রাজপুত গোত্রগুলিকে একত্রিত করেন। অন্যদিকে, বাবর ১৫২৬ সালে ভারত আক্রমণ করেন এবং পানিপাতের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব:
সুমনের এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি দাবি করেছে, সমাজবাদী পার্টি ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে। এই বিতর্ক রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।

শেষ কথা:
রামজি লাল সুমনের এই বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির তীব্র প্রতিক্রিয়ায় এই ইস্যুটি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিতর্কের কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে চোখ রাখবে সবাই।