“কোথাও ছাপ্পা, কোথাও ভুয়ো ভোটার”-জেনেনিন কী কী কারণে গোটা ফলতায় পুনর্নির্বাচন?

আগামীকাল সোমবার, ৪ মে। সারা বাংলা যখন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে এল এক বিস্ফোরক খবর। কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে আপাতত স্থগিত হয়ে গেল ফলতার ভোটগণনা। একটি বা দুটি নয়, গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই ভোট বাতিলের কথা জানাল নির্বাচন কমিশন।
কবে হবে নতুন করে ভোট? মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ফলতায় গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। তাই আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে নতুন করে ভোট নেওয়া হবে এবং ২৪ মে হবে সেই ভোটের ফলাফল ঘোষণা। অর্থাৎ, কাল বাংলার বাকি কেন্দ্রের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হলেও ফলতার লড়াই ঝুলে রইল আরও কয়েক দিনের জন্য।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? কমিশনের হাতে চাঞ্চল্যকর প্রমাণ ফলতায় ঠিক কী কী ঘটেছিল, তা নিয়ে কমিশনের দেওয়া রিপোর্ট যে কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক। একাধিক ভিডিও ফুটেজ এবং পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে কমিশন যে তথ্যগুলো সামনে এনেছে তা চমকে দেওয়ার মতো:
-
ইভিএম কারচুপি: মিডিয়া রিপোর্টে দেখা গিয়েছে একাধিক বুথের ইভিএমে টেপ লাগানো ছিল, যাতে নির্দিষ্ট বোতাম ছাড়া অন্য কিছু না টেপা যায়।
-
ভ্যানিশ ভিডিও ফুটেজ: ৭৮, ৮০, ১৮২, ২২৯-সহ ডজন খানেক বুথের সিসিটিভি ফুটেজ উধাও! কোথাও দীর্ঘক্ষণ রেকর্ডিং বন্ধ ছিল, তো কোথাও দুপুর গড়িয়ে গেলেও কোনো রেকর্ড শুরুই হয়নি।
-
অযাচিত লোকের দাপট: ১৪৪ থেকে শুরু করে ২৬১ নম্বর বুথ— তালিকায় থাকা প্রায় সবকটি পোলিং স্টেশনেই দেখা গিয়েছে বাইরের লোকের অবাধ যাতায়াত।
-
অন্যের হয়ে ভোটদান: পোলিং এজেন্ট নিজেই গিয়ে ভোট দিয়ে আসছেন, এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে ২২৪ নম্বর বুথে। আবার ২৪৫ ও ১৬০ নম্বর বুথে অন্যের হয়ে ভোট দেওয়ার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
-
ভুয়ো ভোটার ও ছাপ্পা: ১৮২ নম্বর বুথে ধরা পড়েছে ভুয়ো ভোটার। আবার ২৪৭ নম্বর বুথে একজন ব্যক্তিকেই বারবার গিয়ে ভোট দিতে দেখা গিয়েছে।
-
রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: ১০, ৭৬, ৯৯ থেকে শুরু করে ২১৮ নম্বর বুথ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও কারচুপিতে মদত দেওয়ার গুরুতর নালিশ জমা পড়েছে।
কমিশনের কড়া বার্তা: মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ম্যারাথন মিটিং করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ফলতায় যে ধরণের বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। পর্যবেক্ষকরা নিজেরা ৬, ১৭০, ১৭১-এর মতো বুথগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই এই আমূল পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
আগামীকাল যখন সারা রাজ্যের মানুষ উৎসবে মাতবেন বা পরাজয়ের গ্লানিতে ডুব দেবেন, ফলতার মানুষ তখন ফের একবার প্রস্তুতি নেবেন ২১ মের নতুন লড়াইয়ের জন্য। কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে এখন কম্পন শুরু হয়েছে।