অদম্য জেদের কাহিনি, এক পায়ে মঞ্চ কাঁপান নৃত্যশিল্পী সুস্মিতা চক্রবর্তী

“এক পায়ে নাচবে কীভাবে? হাঁটাই তো কঠিন!”—লোকের এমন মন্তব্য শুনেই বড় হয়েছেন সুস্মিতা চক্রবর্তী। আজও যখন তিনি হাঁটেন, তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ব্যথা পাচ্ছেন না তো? কিন্তু ইচ্ছাশক্তি, মনের জোর, আর ভালোবাসা থাকলে যে কোনও বাধাই পেরোনো সম্ভব। সেটাই বারবার প্রমাণ করেছেন এই প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী।

শৈশব থেকেই নাচের প্রতি ছিল গভীর আকর্ষণ। কিন্তু নাচ শেখার ইচ্ছায় বাধা এসেছিল প্রথম দিন থেকেই। অনেকেই শেখাতে চাননি, ভয় ছিল—আঘাত পেয়ে যাবে সে! অগত্যা, টিভিই ছিল তাঁর শিক্ষক। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত নৃত্য দেখে নিজেই শিখে নিয়েছিলেন শিল্পের ভাষা।

‘সুধা চন্দ্রন অফ বেঙ্গল’—সংগ্রাম থেকে স্বীকৃতি
কাঁচড়াপাড়ায় জন্ম সুস্মিতার। জন্ম থেকেই একটি পা ছোট, ফলে সমাজের একাংশের তাচ্ছিল্য আর গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। বাবার বাড়ির লোকজনের অপমান সইতে না পেরে মা বাধ্য হয়ে তাঁকে দিদার কাছে পাঠিয়ে দেন। দিদাই হয়ে ওঠেন তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্মিতাকে কাঠের পা দেওয়া হয়। আর সেই কাঠের পা নিয়েই তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের স্বপ্নের জগৎ। নাচে দক্ষতা অর্জন করে জায়গা করে নেন নৃত্যশিল্পীদের তালিকায়। একসময় ‘সুধা চন্দ্রন অফ বেঙ্গল’ নামে খ্যাতি পান। এমনকি কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী সুধা চন্দ্রনের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন, পেয়েছেন তাঁর প্রশংসাও।

নৃত্যের মঞ্চে জয়যাত্রা
বর্তমানে কেরালাবাসী সুস্মিতা। সম্প্রতি মহাবীর সেবা সদনের রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের নাচের মাধ্যমে সকলের মন জয় করেছেন তিনি। তাঁর জার্নি প্রমাণ করে, সত্যিকারের ভালোবাসা আর অধ্যবসায় থাকলে কোনও প্রতিবন্ধকতাই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।