যে ঘটনা সিনেমাকেও হার মানায়, মৃত ঘোষিত ললিতা বাই ফিরলেন জীবিত

কখনও কখনও বাস্তব এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটায়, যা সিনেমার কাহিনিকেও ছাপিয়ে যায়। ঠিক তেমনই ঘটল মধ্যপ্রদেশের গান্ধি সাগর থানা এলাকায়। ২০২৩ সালে নিহত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল যে যুবতীকে, তিনি হঠাৎ করেই ফিরে এলেন নিজের বাড়িতে!
মৃত ঘোষণার দুই বছর পর জীবন্ত প্রত্যাবর্তন
গান্ধিনগরের বাসিন্দা ৩৫ বছরের ললিতা বাই ২০২৩ সালে নিখোঁজ হন। পরে একটি ট্রাক দুর্ঘটনায় বিকৃত দেহ পাওয়া গেলে তাঁর পরিবার সেটিকেই ললিতার দেহ বলে শনাক্ত করে। মৃতদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, পারলৌকিক ক্রিয়াও শেষ করে পরিবার। এই ঘটনায় খুনের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ, যারা এখনও জেলেই রয়েছে।
কিন্তু প্রায় দুই বছর পর পরিবারের সামনে ঘটল জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময়! ললিতা নিজেই ফিরে এলেন বাড়িতে।
পুলিশ-পরিবার সবাই অবাক!
মেয়েকে জীবিত দেখে হতবাক পরিবারের সদস্যরা। ললিতার বাবা থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশও শুনে বিস্মিত! ললিতার দুই সন্তান রয়েছে, যারা মায়ের ফিরে আসায় সবচেয়ে বেশি আনন্দিত।
২০২৩ সালে কী হয়েছিল?
ললিতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে তিনি শাহরুখ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। প্রথমে তাঁকে মধ্যপ্রদেশের ভানপুরায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে আরেকজন শাহরুখের কাছে পাঁচ লাখ টাকায় তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হয়! এরপর ললিতাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজস্থানের কোটা শহরে, যেখানে তিনি প্রায় দেড় বছর বন্দি ছিলেন।
অবশেষে পালিয়ে বাড়ি ফেরা
সুযোগ বুঝে ললিতা কোটা থেকে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফেরেন। তিনি দাবি করেছেন, মোবাইল না থাকায় এতদিন যোগাযোগ করতে পারেননি। নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে আধার কার্ড ও প্যান কার্ড পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।
বড় প্রশ্ন—তাহলে নিহত নারী কে?
২০২৩ সালে ট্রাক দুর্ঘটনায় যাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল, তিনি যদি ললিতা না হন, তবে তিনি কে? কেনই বা ললিতার বাবা ভুল শনাক্ত করেছিলেন?
ললিতার বাবা জানিয়েছিলেন, মৃতদেহ বিকৃত থাকায় তিনি মুখ দেখে শনাক্ত করতে পারেননি। শরীরে থাকা ট্যাটু এবং পায়ে বাঁধা কালো সুতো দেখে দেহটিকে তিনি ললিতার বলে ধরে নেন। এই ভুলের কারণে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চারজন—শাহরুখ, ইজাজ, সোনু ও ইমরান—এখনও জেলবন্দি।
নতুন তদন্তের নির্দেশ
ললিতার ফিরে আসার খবর পেয়ে ওই চার অভিযুক্ত আদালতে মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। আদালত ঝাবুয়া জেলার পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে।
পুলিশ সুপার পদ্মভিলোচন শুক্লা জানিয়েছেন, প্রথমে ললিতার ডিএনএ টেস্ট করা হবে। এরপর সাক্ষীদের নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হবে, ফিরে আসা এই মহিলাই কি সত্যি ললিতা বাই!