ভূত নাকি! মৃত্যুর ২ বছর পর ফিরে এলেন ‘খুন’ হওয়া ললিতা! স্তব্ধ পরিবার সহ প্রতিবেশীরা

সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে এই ঘটনা! যাঁকে দুই বছর আগে হত্যা করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়েছিল, যার মৃত্যুতে শোকে ভেসেছিল পরিবার, সেই ললিতা বাই আবার ফিরে এলেন! মধ্যপ্রদেশের মান্দাসুর জেলার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
২০২৩ সালে মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ললিতা বাই নিখোঁজ হয়ে যান। কিছুদিন পর একটি ট্রাক দুর্ঘটনায় মাথা থেঁতলে যাওয়া এক মহিলার দেহ পাওয়া যায়। পায়ের চিহ্ন ও হাতে থাকা ট্যাটুর ভিত্তিতে ললিতার বাবা ওই দেহকে নিজের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন। এরপরই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় এবং পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে ইমরান, শাহরুখ, সোনু ও এজাজ নামে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা এখনও কারাবন্দি।
দুই বছর পর, আচমকাই মান্দাসুরের রাস্তায় দেখা গেল ললিতা বাইকে! প্রথমে পরিচিতরা তাঁকে দেখে হতভম্ব হয়ে যান। খবর পেয়ে তাঁর বাবাও থানায় যান এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এবং ললিতা জানান চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গান্ধী সাগর থানার ওসি তরুণা ভরদ্বাজ জানান, ললিতা পুলিশের কাছে জানিয়েছেন যে তিনি খুন হননি, বরং এক চক্রের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শাহরুখ নামে এক ব্যক্তি তাঁকে ভানপুরায় নিয়ে গিয়ে ৫ লক্ষ টাকায় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর তাঁকে রাজস্থানের কোটা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি ১৮ মাস বন্দি ছিলেন। ললিতার বক্তব্য, মোবাইল না থাকায় তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি এবং অবশেষে কোনও ক্রমে পালিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তিনি আধার কার্ড দিয়ে নিজের পরিচয়ও নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনার পর পুলিশ সুপার পদ্মবিলোচন শুক্লা জানিয়েছেন, ললিতার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনিই প্রকৃত ললিতা বাই। যদি পরীক্ষায় এটি নিশ্চিত হয়, তাহলে জেলে থাকা চার অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এতদিন ধরে ভুলভাবে এক মহিলার মৃত্যুর দায়ে চারজন জেল খাটছেন—এটি কি শুধুই ভুল নাকি পুলিশের তদন্তে গাফিলতি? আপাতত, গোটা ঘটনা ঘিরে তদন্ত চলছে।