OMG! স্বামীকে হত্যার পরে প্রেমিকের বাইকে দেহ পাচার, ফাঁস CCTV ফুটেজ , ধৃত স্ত্রী

উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভি অফিসারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজস্থানের জয়পুরে ঘটে গেল আরও এক হাড়হিম করা ঘটনা। এক মহিলা তার প্রেমিকের সাহায্যে স্বামীকে খুন করেছেন। খুনের পর মৃতদেহ একটি বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। যাবতীয় প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পনা সত্ত্বেও জয়পুর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন অভিযুক্ত মহিলা গোপালী দেবী এবং তার প্রেমিক দীনদয়াল।

মিরাটের ঘটনার পর জয়পুরে আতঙ্ক

গত সোমবার মিরাটে জলের ড্রাম থেকে মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতের দেহের ১৫টি টুকরো উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে শিউরে উঠেছিল। তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং প্রেমিক সাহিল শুক্লার বিরুদ্ধে খুনের পর দেহ টুকরো করে সিমেন্ট দিয়ে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যেই জয়পুরে প্রকাশ্যে এল ধনলাল সাহানি নামে এক সব্জি ব্যবসায়ীর হত্যার ঘটনা।

কী ঘটেছিল জয়পুরে?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধনলাল সাহানির স্ত্রী গোপালী দেবী গত পাঁচ বছর ধরে দীনদয়াল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। দীনদয়াল সানগানের এলাকায় ‘শ্যাম ফ্যাশন’ নামে একটি কাপড়ের দোকান চালাতেন। ধনলাল স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়ে সন্দেহ করতেন। গত ১৫ মার্চ স্ত্রীকে খুঁজতে তিনি দীনদয়ালের দোকানে যান এবং সেখানে গোপালীকে দীনদয়ালের সঙ্গে দেখতে পান। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

মুহানা থানার আধিকারিক উদয় সিং জানান, এই ঘটনার পর গোপালী এবং দীনদয়াল পরিকল্পনা করে ধনলালকে খুন করেন। দোকানের উপরের তলায় নিয়ে গিয়ে প্রথমে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, তারপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। খুনের পর মৃতদেহ একটি বড় প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দীনদয়ালের মোটরসাইকেলে করে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেহটিতে আগুন লাগিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। পরের দিন, ১৬ মার্চ, পুলিশ অর্ধ-দগ্ধ মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল অপরাধ

প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ উদ্ধার হলেও কোনও সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সিসিটিভি ফুটেজে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তির মধ্যে বড় একটি বস্তা নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, দীনদয়াল বাইক চালাচ্ছেন এবং গোপালী পিছনে বসে বস্তাটি ধরে রেখেছেন। এই প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ গোপালী এবং দীনদয়ালকে গ্রেপ্তার করে। জেরায় গোপালী স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যা করেছেন।

পুলিশের তৎপরতা

জয়পুরের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (দক্ষিণ) দিগন্ত আনন্দ জানান, “ধনলাল তাঁর স্ত্রীর সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন। এর জেরে গোপালী এবং দীনদয়াল ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন, যাতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং সম্ভবত ঘটনাস্থলেই মারা যান।” তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্তরা পালানোর পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু আমাদের দল তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।”

দুই ঘটনার মিল

মিরাট এবং জয়পুরের এই দুটি ঘটনাই স্ত্রী এবং তাঁদের প্রেমিকদের দ্বারা স্বামী হত্যার নৃশংস উদাহরণ। মিরাটে দেহ টুকরো করে সিমেন্টের ড্রামে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল, আর জয়পুরে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। দুই ক্ষেত্রেই প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া

এই দুটি ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জয়পুরের ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এমন নৃশংস অপরাধ পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হল। তদন্ত এখনও চলছে, এবং পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের পূর্ণাঙ্গ ঘটনাক্রম উদঘাটনের চেষ্টা করছে।