“মাকে ধর্ষণের হুমকিও দেয় ওরা…”, ‘র‌্যাগিংয়ের’ শিকার স্নাতকোত্তর পড়ুয়া, ফের বিতর্কে যাদবপুর

ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এবার স্নাতকোত্তরের এক ছাত্রকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা এবং তাঁর মাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হস্টেলে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎপর হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি।

কী ঘটেছিল?
নিগৃহীত ছাত্র ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অভিযোগ, হস্টেলেরই কয়েকজন আবাসিক ছাত্রের দ্বারা তিনি নিগৃহীত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, হোস্টেলের মধ্যেই তাঁকে দুর্ব্যবহার ও মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ফেসবুকে একটি পোস্ট করার পর থেকেই তাঁর ওপর হামলা শুরু হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বপ্ন’ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি পোস্ট করেছিলেন। অভিযোগ, সেই পোস্টের কারণে ক্ষোভ জন্ম নেয়। এরপর সেই ছাত্রকে জোর করে পুরনো পোস্ট মুছে নতুন পোস্ট লেখার জন্য বাধ্য করা হয়।

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ জানিয়ে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং অ্যান্টি-র‌্যাগিং সেলের প্রধানকে ইমেল করেছেন অভিযোগকারী। বিষয়টি সামনে আসতেই কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জানা গেছে, কমিটি দ্রুতই নিগৃহীত ছাত্রের বক্তব্য রেকর্ড করবে।

অভিযোগকারী বলেন, “৯ অগাস্টের ঘটনার পর থেকেই আমি র‌্যাগিংবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরেই ওদের আমার প্রতি ক্ষোভ ছিল। সেদিন মেইন হস্টেলে এক পরিচিতের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি বেরিয়ে যেতেই র‌্যাগারদের একটি গোষ্ঠী আমার ওপর চড়াও হয়। তারা আমার মাকে ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেয়। বিষয়টি এতদূর গড়িয়েছে যে উপাচার্য-সহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সব জানিয়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।