দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির বাংলো থেকে নগদ উদ্ধার, সুপ্রিম কোর্ট শুরু করল ইন-হাউস তদন্ত

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার সরকারি বাংলো থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট ইন-হাউস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায়ের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
গত ১৪ মার্চ, বিচারপতি ভার্মার দিল্লির সরকারি বাংলোয় আগুন লাগার ঘটনায় দমকল বাহিনী আগুন নেভাতে গিয়ে একটি কক্ষ থেকে প্রচুর পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজধানীতে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। ঘটনার সময় বিচারপতি ভার্মা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের তৎপরতা
এই ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কলেজিয়াম শুক্রবার সকালে জরুরি বৈঠক ডাকে। বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিচারপতি ভার্মাকে তাঁর মূল আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টে অবিলম্বে বদলি করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের অক্টোবরে তিনি এলাহাবাদ থেকে দিল্লি হাইকোর্টে বদলি হয়ে এসেছিলেন।
একই দিনে সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চ (প্রধান বিচারপতি-সহ কর্মরত সব বিচারপতি) আরেকটি জরুরি বৈঠক করে। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শুধু বদলিই যথেষ্ট নয়; বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন। সূত্র জানায়, ইন-হাউস তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে।
কেন্দ্রের ভূমিকা
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের কাছে বিচারপতি ভার্মার বদলির সুপারিশ পাঠিয়েছেন। তবে, আইন মন্ত্রক এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করেনি। সূত্রের খবর, বদলি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শিগগিরই প্রকাশিত হতে পারে।
বিচারপতি ভার্মার অনুপস্থিতি
শুক্রবার বিচারপতি ভার্মা দিল্লি হাইকোর্টে উপস্থিত হননি। তাঁর আদালতের কর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। এই ঘটনার পর তিনি আদালতে না যাওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় উঠে এসেছে।
পটভূমি ও প্রভাব
টাকা উদ্ধারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই তৎপরতাকে অনেকে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে, ইন-হাউস তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে সবার দৃষ্টি এখন শীর্ষ আদালতের দিকে।
এই ঘটনা বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে গোটা দেশ।