OMG! রেলের ফাঁকা আবাসনে চুরি রুখে চিত্তরঞ্জনে হিরো ভালু, সকলে করছে পোষ্যের প্রশংসা

মানুষের প্রকৃত বন্ধু কুকুর—এই কথা আবারও প্রমাণ করল দুর্গাপুরের রকি ও চিত্তরঞ্জনের ভালু। বিপদের মুখে মনিবকে বাঁচাতে একটি বিষাক্ত সাপের সঙ্গে লড়েছে, আরেকটি চুরির হাত থেকে বাড়ি রক্ষা করেছে। দুটি ঘটনাই পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দাদের মনে করিয়ে দিয়েছে পোষ্য কুকুরের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সাহসের কথা।

রকির বীরত্ব

দুর্গাপুরের ফুলঝোড়ে বুদ্ধদেব মণ্ডলের বাড়ির ল্যাব্রাডর রকি সম্প্রতি তার মনিবকে বাঁচাতে চন্দ্রবোড়া সাপের সঙ্গে লড়াই করে। ঘটনাটি ঘটে যখন একটি বিষধর সাপ বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছিল। রকি পা দিয়ে সাপটিকে সরিয়ে বাধা দেয়। কিন্তু এই প্রচেষ্টায় সাপটি তাকে ছোবল মারে। তবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার পর রকি এখন পুরোপুরি সুস্থ। বুদ্ধদেব বলেন, “রকি না থাকলে বড় বিপদ হতে পারত। ও আমার পরিবারের সদস্যের মতো।”

ভালুর সাহস

অন্যদিকে, রেলশহর চিত্তরঞ্জনের আরসাইট এলাকায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে চুরির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে সোমা সরকারের পোষ্য পথকুকুর ভালু। ৪ নম্বর রাস্তার ৮/বি আবাসনে দুই দুষ্কৃতী তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল। পাশের ৮/এ আবাসনের ভালু তীব্র চিৎকার করে তাদের দিকে তেড়ে যায়। ভালুর চিৎকারে সোমা বেরিয়ে আসেন এবং দুষ্কৃতীদের দেখে তাদের পরিচয় জানতে চান।

দুষ্কৃতীরা নিজেদের রেলের আইওডব্লিউ বিভাগের কর্মী বলে দাবি করলেও, রাতে বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতিতে তাদের উপস্থিতির কারণ জানাতে ব্যর্থ হয়। সোমা জানান, “চারজন দুষ্কৃতী মোটরবাইকে এসেছিল। ভালু চিৎকার করে তেড়ে যাওয়ায় তারা পিছু হটে। বাকি দুজন রাস্তায় মোটরবাইক চালু রেখেছিল। ভালুর জন্যই তারা পালিয়ে যায়।”

পরিবারের সদস্য ভালু

সোমা জানান, ন’বছর আগে রাস্তা থেকে ভালুকে তুলে এনে তাকে পরিবারের সদস্য করে নিয়েছেন। ৮/বি আবাসনের মালিক গৌতম মহান্তি বলেন, “আমরা সপরিবার গড়বেতায় গিয়েছিলাম। বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কাজে ফাঁকি দিয়েছিল। ভালু না থাকলে চুরি আটকানো অসম্ভব হত।” উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ চিত্তরঞ্জনের ৮৫ নম্বর রাস্তার ১১/বি আবাসনে ফাঁকা থাকায় চুরি হয়েছিল।

সাহসের প্রশংসা

রকি ও ভালুর এই সাহসিকতা এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, “পোষ্য কুকুর শুধু বন্ধু নয়, বিপদে রক্ষাকর্তাও।” এই দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, কুকুরের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন ফিরিয়ে দেয় অসীম নিষ্ঠা ও সুরক্ষা।