অ্যামাজ়ন-ফ্লিপকার্টের গুদাম থেকে নিম্নমানের পণ্য উদ্ধার, বাজেয়াপ্ত করলো প্রশাসন

ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্টের একাধিক গুদামে তল্লাশি চালিয়ে বাধ্যতামূলক শংসাপত্রবিহীন বিপুল পরিমাণ পণ্য উদ্ধার করেছে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)। ভারতের পণ্যমান নির্ধারণকারী এই সংস্থা সম্প্রতি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। গ্রাহকদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর পণ্য থেকে রক্ষা করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে বিআইএস।

গুরুগ্রাম, লখনৌ এবং দিল্লিতে অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের গুদামগুলিতে পরপর তল্লাশি অভিযানে ৭,০০০-এরও বেশি নিম্নমানের পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিক ওয়াটার হিটার, খেলনা, ব্লেন্ডার, বোতল এবং স্পিকার—যেগুলোতে বিআইএস-এর স্ট্যান্ডার্ড চিহ্ন ছিল না। এই পণ্যগুলো ২০১৬ সালের ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস আইনের ১৭ নম্বর ধারার লঙ্ঘন করেছে বলে জানানো হয়েছে।

অভিযানের বিবরণ

বিআইএস জানিয়েছে, এই তল্লাশি অভিযান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছে। লখনৌতে অ্যামাজনের একটি গুদামে ৭ মার্চ চালানো অভিযানে ২১৫টি খেলনা এবং ২৪টি হ্যান্ড ব্লেন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়। গুরুগ্রামে ফ্লিপকার্টের একটি গুদাম থেকে ৫৩৪টি স্টেইনলেস স্টিলের বোতল, ১৩৪টি খেলনা এবং ৪১টি স্পিকার উদ্ধার করা হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে গুরুগ্রামের অ্যামাজন গুদাম থেকে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, পানির বোতল, পিভিসি কেবল এবং অন্যান্য পণ্য জব্দ করা হয়েছিল। দিল্লিতে টেকভিশন ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সরবরাহকারী সংস্থার গুদাম থেকে প্রায় ৭,০০০ ইলেকট্রিক ওয়াটার হিটার, ৪,০০০ ফুড মিক্সার, ৯৫টি রুম হিটার এবং ৪০টি গ্যাস স্টোভ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া, তামিলনাড়ুর তিরুভল্লুরে অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্টের গুদাম থেকে ৩,৬০০টি নিম্নমানের পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বিআইএস-এর বক্তব্য

বিআইএস-এর তরফে বলা হয়েছে, “এই নিম্নমানের পণ্য বাজেয়াপ্ত করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে গ্রাহকদের কাছে শুধুমাত্র নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য বিক্রি হবে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর উচিত বাধ্যতামূলক বিআইএস শংসাপত্র ছাড়া কোনো পণ্য বিক্রি না করা।” সংস্থাটি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, মিশো, মিনত্রা এবং বিগবাস্কেটের মতো ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে নোটিশ জারি করে এই নির্দেশ দিয়েছে।

গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ

বিআইএস গ্রাহকদের ‘বিআইএস কেয়ার অ্যাপ’ ব্যবহার করে পণ্যের শংসাপত্র যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা পণ্যের আইএসআই চিহ্ন এবং লাইসেন্স নম্বরের সত্যতা পরীক্ষা করতে পারেন এবং নিম্নমানের পণ্য সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে পারেন।

এই ঘটনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর পণ্যের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিআইএস জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।