“AI-এর উত্থানে কাজের ধরন বদলাবে”- দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন অরুন্ধতী ভট্টাচার্য

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং জেনারেটিভ এআই-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন কাজের প্রকৃতিকে বদলে দেবে এবং সংস্থাগুলি সেই অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ করবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের বাজারে টিকে থাকতে হলে কর্মীদের নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এ কথা জানিয়েছেন সফ্টওয়্যার সংস্থা সেলসফোর্সের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিইও অরুন্ধতী ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, “মানুষ যে ভুলগুলো করে, এআই সেই ভুলের সংখ্যা কমিয়ে আনবে এবং অনেক বেশি নিখুঁতভাবে সমস্যার সমাধান করবে। তাই নতুন জিনিস শেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এবং তা আটকানো উচিত নয়।” স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মনে করেন, মানুষ এবং এআই একসঙ্গে কাজ করলে উৎপাদনক্ষমতা ও দক্ষতা অনেক বেশি বাড়বে।
পরিবর্তনকে গ্রহণ করার পরামর্শ
অরুন্ধতী বলেন, “পরিবর্তনের সুবিধা নেওয়া তা আটকানোর চেষ্টার চেয়ে অনেক ভালো। কাজের ধরন বদলে যাবে। একসময় টাইপিস্টদের চাহিদা ছিল, কিন্তু আজ টাইপিস্ট বলে কোনও পদ নেই। প্রথম দিকে কম্পিউটার ব্যবহার নিয়েও অনেক আপত্তি ছিল। কিন্তু আজ কম্পিউটার, মেশিন লার্নিং ছাড়া কিছু কল্পনা করা যায় না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের উচিত নিজেদের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন কিছু শেখা, যাতে তারা পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। তথ্য ও পরিসংখ্যান সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বন্ধন ব্যাঙ্কের সঙ্গে সেলসফোর্সের চুক্তি
এদিন সেলসফোর্সের পরিষেবা ব্যবহারের জন্য বন্ধন ব্যাঙ্কের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার এই বেসরকারি ব্যাঙ্ক তাদের হাউজিং ফিনান্স এবং কর্পোরেট ফিনান্স ব্যবসায় সেলসফোর্সের ক্লাউড সিস্টেম ও লোন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করবে। এই প্রযুক্তি ব্যাঙ্কটির ঋণ প্রদান ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
সেলসফোর্সের প্রসার
ভারতের ছয়টি শহরে, যার মধ্যে হায়দরাবাদ অন্যতম, সেলসফোর্সের অফিস রয়েছে। সংস্থাটির কর্মীসংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। ২০২৩ সালের তুলনায় গত বছর সংস্থার বার্ষিক আয় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের এই বক্তব্য এআই-এর যুগে কর্মীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্বকে সামনে এনেছে।