শেয়ার বাজারে ঊর্ধ্বগতি, সাময়িক লাফ নাকি সুদিনের সূচনা?- জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা

বৃহস্পতিবার শেয়ার বাজারে বড়সড় ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সেনসেক্স প্রায় হাজার পয়েন্ট চড়েছে, আর পাঁচ সপ্তাহ পর নিফটি৫০ ২৩ হাজারের মনস্তাত্ত্বিক স্তর ছাড়িয়েছে। এই উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এটি কি শেয়ার বাজারে সুদিন ফেরার ইঙ্গিত, নাকি শুধুই একটি সাময়িক লাফ? বিশেষজ্ঞরা এই ঊর্ধ্বগতির পিছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন, তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নিয়ে এখনও সন্দেহ রয়ে গেছে।

ঊর্ধ্বগতির কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতির পিছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফপিআই) তরফে ব্যাপক শর্ট কভারিং। দ্বিতীয়ত, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (ডিআইআই) কেনাকাটায় নতুন জোয়ার। শর্ট কভারিং হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দাম আরও পড়ার আশঙ্কায় আগে থেকে বিক্রি করে রাখা শেয়ার কিনে নেন, যাতে ক্ষতির পরিমাণ কমে। এই প্রক্রিয়ায় বাজারে ব্যাপক কেনাবেচা হয়, যা সূচককে তাৎক্ষণিকভাবে উপরের দিকে ঠেলে দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, শর্ট কভারিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাজারকে টেকসইভাবে উপরে রাখতে প্রয়োজন মৌলিক শক্তির সমর্থন, যা এখনও পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না।

পিই রেশিও এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

ভারতীয় শেয়ার বাজারের মূল্যায়ন (পিই রেশিও) এখনও অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বেশি। বৃহস্পতিবারের হিসেব অনুযায়ী, ভারতের পিই রেশিও ২২.৮০, যা চিনের (১০.৪৩) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিই রেশিও (২৪.৭৯) এর কাছাকাছি। এই উচ্চ মূল্যায়নের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত ছেড়ে চিনের মতো কম মূল্যায়নে থাকা বাজারে পুনঃবিনিয়োগ করছেন।

তবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত এবং রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে যতি পড়ার সম্ভাবনা ভারতীয় বাজারে কিছুটা আশার আলো জুগিয়েছে। এছাড়া, ডলার ইনডেক্সের দুর্বলতাও ভারতীয় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নভেম্বরে ডলার ইনডেক্স ১১০ থেকে নেমে ১০৩-এ পৌঁছেছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা

ইতিহাস বলছে, গত ২০ বছরে নিফটি৫০ ১৩ বার ১০ শতাংশের বেশি নেমেছে, যার মধ্যে ১১ বারই এক বছরের মধ্যে ক্ষতি পুষিয়ে লাভে ফিরেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। মর্গ্যান স্ট্যানলি, জেফেরিজ এবং ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার মতো সংস্থাগুলি মনে করছে, ভারতের পিই রেশিও এখনও অনেক বেশি, যা বাজারের দীর্ঘমেয়াদী উত্থানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শেষ কথা

বৃহস্পতিবারের ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। তবে এটি কি টেকসই উত্থানের সূচনা, নাকি শুধুই একটি সাময়িক লাফ, তা সময়ই বলবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ নীতি অনুসরণ করা উচিত এবং দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের গতিপ্রকৃতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

(এই প্রতিবেদনটি শেয়ার বাজার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।)