কথায় কাথায় ‘ভারতের নাম’! বালোচিস্তানও কি পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়ে যাবে? চলছে জোর চর্চা

বালোচিস্তানে একের পর এক বিদ্রোহী হামলায় চাপে পাকিস্তান সরকার। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফের ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল ইসলামাবাদ। ২০ মার্চ পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, “ভারত সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিচ্ছে।” তাদের দাবি, বালোচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই ভারতের উদ্দেশ্য।

ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে বর্বর অত্যাচার চালিয়ে নিজেদের দেশ ভাঙার পথ তৈরি করেছিল পাকিস্তান সেনা, যার ফলে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। এখন বালোচিস্তান নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—পাকিস্তান কি আরও একবার ভাঙনের পথে?

পাকিস্তানের এই অভিযোগ অবশ্য ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। গত ১৪ মার্চ ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বিশ্ব জানে সন্ত্রাসবাদের আসল কেন্দ্র কোথায়। পাকিস্তানের উচিত নিজেদের ব্যর্থতার জন্য অন্যের দিকে অভিযোগের আঙুল না তোলা।”

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অভিযোগ করেন, “ভারত কখনও জাফর এক্সপ্রেসে হামলার নিন্দা করেনি।” প্রসঙ্গত, ১১ মার্চ বালোচ বিদ্রোহীরা কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছিনতাই করে। ট্রেনটিতে প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী ছিলেন। পাকিস্তানি সেনা যাত্রীদের উদ্ধারে গেলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। তাতে কমপক্ষে ২৪ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়।

বিদ্রোহী সংগঠন বিএলএ দাবি করেছে, এই সংঘর্ষে তাদের ১২ জন যোদ্ধা শহিদ হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার সংখ্যা গোপন করছে। তারা দাবি করেছে, বন্দি থাকা ২১৪ জন যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। কোয়েটা স্টেশন থেকে কয়েকশো কফিন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং চর্চা শুরু হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, বালোচিস্তানে ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে পাকিস্তান সরকার, আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই ভারতকে দোষারোপ করছে ইসলামাবাদ।