OMG! চা বাগানে সহকারী ম্যানেজার দ্বিখণ্ডিত দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর ঘটনা শিলিগুড়িতে

শিলিগুড়ি লাগোয়া ফাঁসিদেওয়া এলাকার জয়ন্তিকা চা বাগানে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার নীলাঞ্জন ভদ্র (৪৮)-কে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। তাঁর দু’টুকরো দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে, তবে কে বা কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও রহস্য।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ নীলাঞ্জন ভদ্র মোটরসাইকেলে করে জয়ন্তিকা চা বাগানের ১২ নম্বর সেকশন দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ফোন ধরার জন্য তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়ান। ঠিক তখনই অভিযোগ, চা গাছ প্রুনিং করার কাটারি দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা হয়। একাধিকবার কোপানোর ফলে তাঁর শরীর দু’টুকরো হয়ে যায়। চা বাগানের শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে তাঁর রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
কে ছিলেন নীলাঞ্জন ভদ্র?
নীলাঞ্জন ভদ্রের বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলার হ্যামিলটনগঞ্জে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জয়ন্তিকা চা বাগানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জয়শ্রী গ্রুপের অধীনে পরিচালিত এই চা বাগানে সাধারণত শ্রমিকদের মধ্যে কোনও অসন্তোষের খবর ছিল না। বাগানের কাজকর্মও স্বাভাবিকভাবে চলছিল। তাই এমন নৃশংস হত্যার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা নিয়ে রহস্য ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত
ঘটনার খবর পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ ও নকশালবাড়ির এসডিপিও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পিছনে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা না অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার শ্রমিক ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এলাকায় উত্তেজনা
এই হত্যাকাণ্ডের পর চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা এই এলাকায় বিরল। নীলাঞ্জন ভদ্রের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়নি। তবে হত্যার ধরন দেখে অনেকে মনে করছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।
রহস্যের জট খুলবে কবে?
এই মুহূর্তে হত্যাকারীর পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। পুলিশ ফরেনসিক দলের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। এই নৃশংস ঘটনার তদন্তে কোনও গতি আসে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের। জয়ন্তিকা চা বাগানে এই হত্যাকাণ্ডের পর শ্রমিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।