আবারও বদলির শিকার ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী, “ভয় দেখিয়ে আমার কন্ঠরোধ করা যাবে না”,আরো যা বললেন তিনি?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী আবারও বদলির শিকার হয়েছেন। এই বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ এটি তাঁর কর্মজীবনের ১৪তম বদলি এবং তৃণমূল সরকারের আমলে অষ্টমবার। এবার তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার (ডেপুটি সিএমওএইচ) পদ থেকে দার্জিলিংয়ের একটি টিবি হাসপাতালের সুপারের পদে বদলি করা হয়েছে। এই পদটি তাঁর বর্তমান পদমর্যাদার চেয়ে নিচু স্তরের। ডাঃ গোস্বামী দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, এই বদলি তাঁর কণ্ঠরোধ করতে পারবে না, এবং তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলন চলবে।
বদলির পেছনের কারণ?
ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগে একজন সক্রিয় ও প্রতিবাদী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনায় সোচ্চার হয়েছিলেন এবং দুর্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তাঁর এই সক্রিয়তাই বারবার বদলির কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ডাঃ গোস্বামী বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে এটা আমার অষ্টম বদলি। আমি যেখানে আছি, সেই পদে এটাই পঞ্চমবার বদলি। অথচ শাসক দলের ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকরা ১৫ বছর ধরে একই পোস্টে তাদের পছন্দের জায়গায় রয়েছেন। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদেরই বারবার বদলি করা হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ডেপুটি সিএমওএইচ হিসেবে যে কাজ করি, তার নিরিখে রাজ্যে আমরা প্রথম দিকে আছি। তারপরেও আমাকে দার্জিলিংয়ের একটি রোগীবিহীন হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। এটি আমার পদমর্যাদার চেয়ে নিচু একটি পদ।”
সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
ডাঃ গোস্বামীর মতে, এই বদলি সরকারের প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের অংশ। তিনি বলেন, “রাজ্যজুড়ে যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটি শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, অনেকের ক্ষেত্রেই এমন হচ্ছে। সরকার আইনত আমার পদমর্যাদার চেয়ে নিচু পদে বদলি করতে পারে না, কিন্তু তারা তা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এই বদলিকে শিরদাঁড়া সোজা রেখে প্রশ্ন করার স্বীকৃতি এবং পুরস্কার হিসেবে দেখছি। কিন্তু কেউ যদি ভাবে যে এইভাবে আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। আমি বর্ধমান হোক বা দার্জিলিং, যেখানেই থাকি না কেন, অনাচারের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার হব। বিচারের দাবিতে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করব।”
অতীতের সংগ্রাম
ডাঃ গোস্বামী শুধু বদলির শিকারই হননি, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আরজি করের ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আমাকে লালবাজারে মিথ্যে অভিযোগে সমন দেওয়া হয়েছিল। মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকেও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বদলিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। কিন্তু সরকার যদি ভাবে যে এইভাবে আন্দোলন দমন করা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। আমি যেখানেই থাকি, সেখান থেকেই চিকিৎসকদের নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
শেষ কথা
ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামীর বারবার বদলি রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগে দুর্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অটল মনোভাব এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস অনেককেই অনুপ্রাণিত করছে। সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর এই লড়াই শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি বৃহত্তর সংগ্রামের প্রতীক। ডাঃ গোস্বামী বলেছেন, “যেখানেই থাকি না কেন, আমি অনাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”
এই ঘটনা রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা আরও একবার তুলে ধরেছে। ডাঃ গোস্বামীর মতো চিকিৎসকদের সমর্থন এবং তাদের কণ্ঠরোধ না করার দাবি জানাচ্ছেন অনেকেই।