বিয়ে করেও কন্যাশ্রীর জন্য আবেদন, ১৪টি ভুয়ো আবেদনপত্র বাতিল কর্তৃপক্ষের

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পে ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার লোভে বিবাহিত মহিলারা অবিবাহিত পরিচয়ে আবেদন জানিয়েছেন। মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লক প্রশাসন বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশনে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে। এ পর্যন্ত ১৪টি ভুয়ো আবেদনের হদিশ মিলেছে, যার মধ্যে কারও বিয়ে হয়েছে বছরখানেক আগে, আবার কারও সন্তানও রয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ জেলাশাসকের
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই জালিয়াতির পিছনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হরিশ্চন্দ্রপুর–২-এর বিডিও তাপসকুমার পাল বলেন, “এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক বা একাধিক কর্মীর যোগসাজশের আশঙ্কা রয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের পরই এই ভুয়ো আবেদনপত্রগুলো ধরা পড়েছে। সন্দেহ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, কিছু কর্মী প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভেরিফিকেশনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর হাই মাদ্রাসার কন্যাশ্রী প্রকল্পের আবেদনপত্র যাচাই করতে মশালদহ অঞ্চলের তালগাছি ও করকরিয়া গ্রামে যান হরিশ্চন্দ্রপুর–২-এর জয়েন্ট বিডিও সোনাম ওয়াংদি লামা। তিনি জানান, “১৬টি আবেদনের তথ্য যাচাই করে ১৪টি ভুয়ো আবেদনপত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’মাস আগে পঞ্চায়েত ও ব্লককর্মী পরিচয়ে দুজন ব্যক্তি ওই গ্রামে এসে আবেদনপত্র সংগ্রহ করেন। তারা প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কন্যাশ্রী প্রকল্প কী?
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বছরে ১০০০ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া ১৮ বছর পেরিয়ে অবিবাহিত থাকলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এই ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার লোভেই বিবাহিত মহিলারা নিজেদের অবিবাহিত হিসেবে দেখিয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন।
কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস
বিডিও তাপসকুমার পাল জানান, “এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের শিক্ষায় সহায়তা করা। কিন্তু এভাবে জালিয়াতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভুয়ো আবেদনকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসন এই জালিয়াতি রুখতে আরও কঠোরভাবে তদন্ত চালানোর আশ্বাস দিয়েছে।