OMG! ১০৫ বছরের চিকিৎসকের বুকে বসল পেসমেকার, বিরল এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হাসপাতাল

ভারত যখন স্বাধীনতা পায়নি, তখন তিনি ডাক্তারি পড়া শেষ করেছিলেন। শতায়ু সেই চিকিৎসক স্মৃতিকণা রায় এখন ১০৫ বছর বয়সে পৌঁছেও অদম্য। বয়সের ভারে শরীর অশক্ত হলেও মনের জোরে তিনি এখনও অটুট। সম্প্রতি হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে তাঁর বুকে পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন হয়। বয়সের কথা ভেবে প্রথমে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা সংশয়ে থাকলেও, স্মৃতিকণার শারীরিক অবস্থা দেখে ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। গত শনিবার ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট সুনীলবরণ রায় সফলভাবে তাঁর বুকে পেসমেকার বসান। সোমবার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পান। এই বিরল সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগিণী নিজেও।

জীবনের গল্প

১৯১৯ সালে বালিগঞ্জে জন্ম স্মৃতিকণা রায়ের। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং পরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পেশায় তিনি ছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করার সময় তিনি প্রায় তিন হাজার নবজাতকের প্রসব করিয়েছেন। বয়সের ভার তাঁর শরীর বা মনকে দমাতে পারেনি। ১০৫ বছর বয়সেও তিনি হাসিমুখে পেসমেকার বসানোর প্রক্রিয়া সহ্য করেছেন। আলিপুরের উডল্যান্ডস হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, ভর্তি থাকার কয়েকদিনে তাঁর স্নিগ্ধ স্বভাব ও মাধুর্যে চিকিৎসক-নার্সদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

অস্ত্রোপচারের সাফল্য

চিকিৎসক সুনীলবরণ রায় জানান, “পেসমেকার বসানোর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। এর আগে তাঁর মাথা ঘুরত, শরীরে দুর্বলতাও দেখা দিচ্ছিল। কিন্তু স্মৃতিকণা নিজে সেসব গায়ে না মেখে চিকিৎসকদের উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁর নিজের ডাক্তারি জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভরসা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” পেসমেকার বসানোর পর তিনি এখন অফুরান প্রাণশক্তিতে ভরপুর।

স্মৃতিকণা নিজে বলেন, “চিকিৎসকদের ওপর ভরসা রেখেছি। আমার প্রাণশক্তির উৎস হল নিরন্তর কাজ করে যাওয়া আর অন্যের উপকার করা। এই কারণেই এই বয়সেও সুস্থ আছি।”

হাসপাতালে উৎসাহ

এই বয়সে পেসমেকার বসানোর সফলতা একটি বিরল ঘটনা। উডল্যান্ডস হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা এই কৃতিত্বে গর্বিত। স্মৃতিকণার জীবনীশক্তি ও ইতিবাচক মনোভাব সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর এই সাহস ও চিকিৎসকদের দক্ষতা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

১০৫ বছর বয়সে পেসমেকার বসিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা স্মৃতিকণা রায় শুধু একজন চিকিৎসকই নন, তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর জীবনের গল্প প্রমাণ করে, বয়স শুধুই একটি সংখ্যা—মনের জোর ও কাজের প্রতি নিষ্ঠাই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।