“রাত ৩ টের সময় রায় ঘোষণা!”- ঠিক যেন বলিউড সিনেমা জলি এলএলবি ২ -এর মতো কান্ড

অক্ষয় কুমারের ‘জলি এলএলবি ২’ সিনেমার একটি দৃশ্য মনে আছে? যেখানে ফেক এনকাউন্টারে পুলিশের গুলিতে নিহত একজনের মামলায় মধ্যরাত পর্যন্ত আদালতের শুনানি চলেছিল। সিনেমার সেই দৃশ্য যেন বাস্তবে রূপ নিল বারাসত আদালতে। গভীর রাতে, যখন চারদিক শুনশান, বারাসতের অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) কোর্টে চলল রুদ্ধশ্বাস শুনানি। সোমবার রাত তিনটে নাগাদ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইতিহাসে নাম লেখাল এই আদালত।

কী ঘটেছিল?

আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করতে হয়। কিন্তু মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ একটি চেক বাউন্স মামলায় গ্রেপ্তার জ্যোতিপ্রকাশ দাস নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ দিন পর আদালতে পেশ করে। গত ১২ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়া জ্যোতিপ্রকাশকে ১৩ মার্চের মধ্যে আদালতে তোলার কথা থাকলেও, তাকে ১৭ মার্চ বারাসত আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে প্রথমে বারাসত মেডিক্যাল কলেজে এবং পরে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে, এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ পুলিশ জমা দিতে পারেনি বলে আইনজীবীদের অভিযোগ।

রাত জেগে শুনানি

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জ্যোতিপ্রকাশকে প্রথমে একজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তোলা হয়। পরে মামলাটি এসিজেএম-এর এজলাসে স্থানান্তরিত হয়। রাত পৌনে ন’টায় শুনানি শুরু হয় এবং তা চলে রাত তিনটে পর্যন্ত। বিচারক, দুই পক্ষের আইনজীবী এবং আদালতের আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে এই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হন। শেষে, অভিযুক্ত জ্যোতিপ্রকাশ দাসকে ১,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সুশোভন মিত্র বলেন, “আমার পেশাগত জীবনে এত রাতে কোনও মামলার রায় হয়েছে বলে শুনিনি। পুলিশের ভুলের জন্যই বিচারককে রাত জেগে শুনানি করতে হল। একজন অভিযুক্তকে বিনা বিচারে এতদিন আটকে রাখা যায় না।”

বারাসত আদালতের আইনজীবী গৌরীশঙ্কর বল বলেন, “এটা একটা বিরল অভিজ্ঞতা। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই রাত তিনটে পর্যন্ত আদালত চালু রাখতে হল। এই ঘটনা সত্যিই নজিরবিহীন।”

পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন

মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা আইনের নিয়ম মানেনি। অভিযুক্তের অসুস্থতার দাবি করলেও তারা কোনও চিকিৎসা প্রমাণ বা হাসপাতালের নথি পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইতিহাসের পাতায় বারাসত আদালত

গভীর রাতে শুনানি এবং রায় ঘোষণার এই ঘটনা বারাসত আদালতকে এক অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। সিনেমার পর্দার কাল্পনিক দৃশ্য বাস্তবে রূপ নিয়ে ন্যায়বিচারের প্রতি আদালতের অঙ্গীকারকে আরও জোরালো করেছে। এই ঘটনা আইনের শাসন ও ন্যায়ব্যবস্থার প্রতি মানুষের ভরসাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন অনেকে।