“অফিসের সমস্ত কাজ ও ব্যবসার তদারকি করবে AI”-বললেন মার্ক জাকারবার্গ

প্রযুক্তি বিশ্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, মেটা প্ল্যাটফর্মস বর্তমানে বিশেষ ধরনের এআই এজেন্ট তৈরির কাজ করছে। এই এজেন্টগুলো কেবল প্রশ্নের উত্তর দেবে না, বরং ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট লক্ষ্য বুঝে নিজে থেকেই সেই কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
জাকারবার্গের মতে, বাজারে বর্তমানে ‘ওপেনক্ল’-এর মতো কিছু এআই এজেন্ট থাকলেও সেগুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বেশ জটিল। জাকারবার্গ মজার ছলে বলেন, “বর্তমান এআই এজেন্টগুলো এতটাই জটিল যে, আমি নিজেও এগুলো আমার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করতে দিতে চাই না।” এই জটিলতা কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করতেই মেটা-র এই নতুন উদ্যোগ।
কীভাবে কাজ করবে এই এআই এজেন্ট? মেটা-র এই প্রকল্প মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত— ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক।
-
ব্যক্তিগত এজেন্ট: এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনের রুটিন মাফিক কাজগুলো সহজ করবে।
-
ব্যবাসায়িক এজেন্ট: এটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বড় কোম্পানিগুলোকে নতুন গ্রাহক খুঁজে পেতে এবং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করবে।
এই এআই এজেন্টগুলো মেটার নতুন ‘সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’-এর প্রথম বড় পদক্ষেপ। এটি মূলত কোম্পানির সাম্প্রতিক ‘মিউজ স্পার্ক’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে। জাকারবার্গের লক্ষ্য হলো এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা হবে অত্যন্ত ব্যবহারবান্ধব এবং সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে পেশাদার ব্যবসায়ী— সবাই অনায়াসে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
যদিও এই প্রযুক্তিটি ঠিক কবে নাগাদ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি মেটা। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রজেক্ট সফল হলে ব্যক্তিগত সহকারী এবং ব্যবসায়িক অটোমেশনের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। মেটার এই পদক্ষেপ গুগল বা ওপেনএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।