“নিজে তো মেয়েবাজি…ষড়যন্ত্র করা হয়েছে…”— থানার বড়বাবুকে সরাতেই আন্দোলন ব্যবসায়ীদের

থানার বড়বাবুর বদলির প্রতিবাদে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার বিকেলে রামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে সামিল হন তাঁরা। অভিযোগ, স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী বরুণ কর্মকার ওরফে সুকুর চক্রান্তেই বদলি করা হয়েছে রামপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আসিরুল হককে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, বড়বাবু হিসেবে পরিচিত এসআই আসিরুল হক সৎ ও দায়িত্ববান অফিসার ছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান করতেন বলেই তাঁরা তাঁকে ভালোবাসতেন। কিন্তু বরুণ কর্মকারের ষড়যন্ত্রে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্থানীয় দোকানদারদের ভুল বুঝিয়ে তাঁদের থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন এবং সেই নথির ভিত্তিতেই বদলির ব্যবস্থা করেন।

বিক্ষোভকারী পার্থ দাস বলেন, “বড়বাবু খুব ভালো ছিলেন। সুকু কর্মকার আমাদের কাছ থেকে মিথ্যে সই করিয়ে তাঁকে সরানোর চক্রান্ত করেছে। আমরা চাই ওঁকে ফিরিয়ে আনা হোক।”

দীপক সরকার নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “সুকু মিথ্যা অভিযোগ এনে বড়বাবুর বদলি করিয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বড়বাবুকে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীর শাস্তি দিতে হবে।”

বিকেল পাঁচটা নাগাদ বিক্ষোভ শুরু হতেই জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রামপুর পুলিশ ফাঁড়ির আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধকারীরা আধ ঘণ্টার মধ্যে রাস্তা ছাড়েন।

পুলিশের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, এটি রুটিন বদলি হতে পারে এবং এতে কোনও ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেনি। অন্যদিকে, যাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে, সেই বরুণ কর্মকার এখনও মুখ খোলেননি।

এই ঘটনাকে ঘিরে রামপুরের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বড়বাবুর বদলি আদৌ চক্রান্ত নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়েছে।