পাকিস্তানি সেনার ঘুম ওড়াল BLA, ৮টি জেলায় ১০টি হামলা, খতম একাধিক সেনা

বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA) দাবি করেছে, একদিনের মধ্যে তারা পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে আটটি জেলায় দশটি হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে একাধিক সেনা নিহত হয়েছেন এবং বহু আহত। বিদ্রোহীদের হামলায় পাক সেনার বেশ কয়েকটি গাড়িও ধ্বংস হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেনা ও পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে BLA জানিয়েছে, “আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা কোয়েটা, তুরবাত, হারনাই, মাস্টাং, পঞ্জগুর, খুজদার, নাসিরাবাদ ও জাফরাবাদে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের উপর IED হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে পাঁচজন পাক সেনা নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া তিনটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং দখলদার বাহিনীর অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
মাত্র কয়েকদিন আগেই বোলান এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন অপহরণ করেছিল BLA। সংগঠনটি দাবি করেছিল, তারা ওই ট্রেনের ২০০-র বেশি যাত্রীকে হত্যা করেছে। এরপরই তারা পাকিস্তান সেনার এক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ৯০ জন সেনাকে হত্যা করার দাবি জানায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬ মার্চ বন্দুকবাজরা বাইকে এসে চমনে ফ্রন্টিয়ার কোরের এক জওয়ানকে গুলি করে হত্যা করে। কোয়েটায় আরও একটি হামলায় এক নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয় ও আরেকজন আহত হন। এর আগের দিন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল পাক সেনা, যেখানে ২৩ জন বালোচ বিদ্রোহী ও ২২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।
১৭ মার্চ, কালাটের মুঘলজাই এলাকায় এক মহিলা বালোচ বিদ্রোহীর আত্মঘাতী বিস্ফোরণে এক পাক সেনার মৃত্যু হয় এবং আরও চারজন আহত হন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি নিহত সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
অন্যদিকে, আরেকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি (BNA) দাবি করেছে, ১৪ মার্চ তারা ‘অপারেশন গেরক’ পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে পাকিস্তানি সেনার নির্মাণ সাইটে কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জাম ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, চিনের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানি সেনারা বালোচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে, আর সেই কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বালোচ বিদ্রোহীদের এমন ধারাবাহিক আক্রমণে গোটা অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা চরমে।