“প্রভাবশালী শ্বশুরের নির্দেশে…”- ED-র তলবে পার্থর সব কীর্তি ফাঁস করলেন জামাই

রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অবশেষে অনুমতি মিললে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গোপন জবানবন্দি দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য। সূত্রের দাবি, এই জবানবন্দিতে তিনি শ্বশুর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি, নিজের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের কাছে ক্ষমার আবেদনও জানিয়েছেন এই প্রবাসী ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার আদালতে কল্যাণময় জানিয়েছেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ২০১৭ সালে শাশুড়ি বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর পার্থ একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। সেই ট্রাস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁর মেয়ে তথা কল্যাণময়ের স্ত্রী সোহিনী চট্টোপাধ্যায়কে, যিনি এর চেয়ারম্যান হন। ওই ট্রাস্টের নামে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি স্কুল তৈরি করা হয়। স্কুলটি পরিচালনার ভার ছিল কল্যাণময়ের দুই মামার ওপর।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী কল্যাণময়কে তলব করে ইডি। পেশায় পোশাক ব্যবসায়ী কল্যাণময় ইডির ডাকে কলকাতায় ফিরে আসেন। কিন্তু মামলার বিচার শুরু হতেই তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সূত্রের খবর, গোপন জবানবন্দি দেওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার অনুমতির জন্য তিনি আদালতে আবেদন জানাতে পারেন।

কল্যাণময় আরও জানিয়েছেন, নিয়োগ দুর্নীতির টাকা নগদে বিভিন্ন ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দেওয়া হতো। এই ব্যক্তিরা তাদের নির্দিষ্ট কমিশন কেটে বাকি অর্থ বাবলি চট্টোপাধ্যায় চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে জমা করতেন। এই ট্রাস্টের নামে বিপুল পরিমাণ জমিও কেনা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তিনি জানান, দুর্নীতিতে জড়ানোর কোনও ইচ্ছা তাঁর ছিল না। কেবল প্রভাবশালী শ্বশুরের নির্দেশে তিনি স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

Saheli Saha
  • Saheli Saha