BigNews: রোজভ্যালি চিটফান্ডের ৪৫০ কোটি টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু, জেনেনিন আবেদন পদ্ধতি

রোজভ্যালি চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর। রোজভ্যালি অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি (ADC)-র মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আবেদন করতে হবে কমিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.rosevalleyadc.com-এর মাধ্যমে। যাচাইকরণ এবং টাকা ফেরতের জন্য এই ওয়েবসাইটেই সরাসরি আবেদন জমা দিতে হবে।
রোজভ্যালি গ্রুপের পঞ্জি স্কিমে প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরতের জন্য ২০১৫ সালের ১৫ মে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছিল এই কমিটি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তদন্তের পর এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য ফেরত প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি ED-র তরফে রোজভ্যালির সম্পত্তি থেকে ১৯.৪০ কোটি টাকা এডিসি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করতে হবে:
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.rosevalleyadc.com-এ যান।
- হোমপেজে “Upload Certificate” অপশনে ক্লিক করুন।
- আপনার সার্টিফিকেট নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য এবং ব্যাঙ্কের বিবরণ পূরণ করুন।
- প্রয়োজনীয় নথি (যেমন, বিনিয়োগের সার্টিফিকেট, স্বীকৃতি রসিদ) আপলোড করুন।
- ফর্ম জমা দিন এবং যাচাইকরণের জন্য অপেক্ষা করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা তাঁদের আবেদনের স্ট্যাটাসও ওয়েবসাইটে চেক করতে পারবেন। এর জন্য “Investors” সেকশনে গিয়ে সার্টিফিকেট নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
কোনও প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করুন
প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কোনও সন্দেহ বা প্রশ্ন থাকলে বিনিয়োগকারীরা info@rosevalleyadc.com-এ ইমেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও কমিটির ঠিকানা—৫ ম্যাঙ্গো লেন, রুম নম্বর ৪০১ ও ৪০২, কলকাতা-৭০০০০১-এ সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।
প্রথম ধাপে ফেরত শুরু
ইতিমধ্যে প্রথম ধাপে ৭,৩৪৬ জন বিনিয়োগকারীকে জনপ্রতি ১০,২০০ টাকা করে মোট ৫.১২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এডিসি-র চেয়ারপার্সন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ কুমার শেঠ জানিয়েছেন, ED-র সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত ফেরত পরিকল্পনার শুরু। ধীরে ধীরে সব বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”
রোজভ্যালি কেলেঙ্কারি প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করেছে বলে অনুমান করা হয়, যাতে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী প্রতারিত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় অনেকেই এখন আশার আলো দেখছেন। বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, দ্রুত আবেদন করে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে।