‘ইউক্রেনীয় সেনারা আত্মসমর্পণ করলেই …? ‘, ট্রাম্পকে কি জবাব দিলেন পুতিন

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ইউক্রেনীয় সেনাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর জবাবে পুতিন বলেছেন, যদি ইউক্রেনীয় সেনারা আত্মসমর্পণ করে, তবে তিনি তাদের জীবন রক্ষার গ্যারান্টি দেবেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে পুতিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “যদি তারা আত্মসমর্পণ করে, আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি যে আমরা তাদের জীবন রক্ষা করব। আন্তর্জাতিক আইন এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের আইন অনুসারে তাদের জীবন ও উপযুক্ত ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।”
ট্রাম্প শুক্রবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “গতকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমাদের খুব ভাল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই ভয়ানক, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হওয়ার খুব ভাল সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি পুতিনের কাছে ইউক্রেনীয় সেনাদের জীবন রক্ষার বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন। তবে, ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেননি যে তিনি পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন কি না। সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মস্কোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পুতিনের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, উইটকফ ট্রাম্পকে ব্রিফ করার পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ফোনালাপের ব্যবস্থা করা হবে।
পুতিনের শর্ত ও মেদভেদেভের হুঁশিয়ারি
পুতিনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের শর্ত দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “যদি ইউক্রেনীয় সেনারা অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাদের সবাইকে পরিকল্পিতভাবে এবং নির্মমভাবে নির্মূল করা হবে।” এই বিপরীতমুখী বক্তব্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
ট্রাম্প এ সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে কথা বলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেছেন। বৃহস্পতিবার পুতিন এই প্রস্তাবের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন বলে জানান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এতে সম্মতি দিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেছেন, “ইউক্রেন প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত। এটি একটি ব্যাপক শান্তি পরিকল্পনা তৈরির সুযোগ। আমি যুদ্ধ শেষ করতে গুরুতর এবং এটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ও উদ্দেশ্য
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চান মস্কো এবং কিয়েভ দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হোক, যাতে এমন একটি সংঘাত এড়ানো যায় যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে উভয় পক্ষের অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। আমরা চাই এই রক্তপাত বন্ধ হোক।” যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লাখ লাখ সেনা ও বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার জরুরতাকে আরও জোরালো করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
মার্কিন ও রাশিয়ান কর্মকর্তারা এখন এই যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইউক্রেনের সম্মতি সত্ত্বেও, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের শর্ত এবং মেদভেদেভের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আগামী দিনে এই আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে পুতিনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতিক্রিয়ার ওপর।