ক্রেপ ব্যান্ডেজ দিয়ে কোমর-উরুতে জড়ানো সোনার বার, রানিয়াকে তল্লাশি করতেই প্রকাশ্যে সবটা

বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কন্নড় অভিনেত্রী রানিয়া রাওকে সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজস্ব গোয়েন্দা দফতরের (ডিআরআই) তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি ১২ কোটি টাকার সোনা পাচার করেছেন।

কীভাবে ধরা পড়লেন রানিয়া?

গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময়ই বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হয়। অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়ে দেন, তাঁর কাছে কোনও শুল্কযুক্ত পণ্য নেই। কিন্তু মেটাল ডিটেক্টর স্ক্যানারে বিষয়টি ধরা পড়ে। তল্লাশিতে দেখা যায়, রানিয়ার কোমর ও ঊরুতে ক্রেপ ব্যান্ডেজ দিয়ে মোড়ানো ছিল সোনার বার। এছাড়া, তাঁর জুতো ও জামার পকেট থেকেও সোনা উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডিআরআই-এর তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছর ১৩ নভেম্বর ও ২০ ডিসেম্বর দুবাই থেকে সোনা কিনেছিলেন রানিয়া। দুবাইয়ের কাস্টমসে তিনি জানিয়ে ছিলেন, তিনি সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভা যাচ্ছেন। কিন্তু পরে পরিকল্পনা বদলে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। তদন্তে আরও জানা যায়, রানিয়া এর আগেও দু’বার সোনা পাচারের চেষ্টা করেছিলেন।

রানিয়ার স্বীকারোক্তি

তদন্তকারীদের সামনে রানিয়া স্বীকার করেছেন, তিনি ১৭টি সোনার বার নিয়ে দুবাই থেকে এসেছিলেন। তাঁর স্বামী যতীন হুক্কেরিও প্রায়ই দুবাই যাতায়াত করতেন। ডিআরআই এখন খতিয়ে দেখছে, তাঁর স্বামীর সোনা পাচার চক্রের সঙ্গে কোনও যোগসাজশ রয়েছে কিনা।

বেঙ্গালুরুতে অভিযান

গ্রেফতারির পর রানিয়ার বেঙ্গালুরুর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২.০৬ কোটি টাকার সোনার গয়না এবং নগদ ২.৬৭ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। ডিআরআই-এর দাবি, রানিয়া মোট ৪.৮৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন।

পারিবারিক ইতিহাস

রানিয়ার বাবা রামচন্দ্র রাও একজন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার। কিছু বছর আগে ম্যাইসুরুতে সোনা পাচারের মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। এবার তাঁর কন্যাই ধরা পড়লেন সোনা পাচারের অভিযোগে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

বর্তমানে রানিয়া রাওকে ডিআরআই-এর হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং তাঁর বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।