“হাসপাতাল নয়, মুসলিমের থুতুতেই সুস্থ হবে সাপে কাটা রোগী”-পিরজাদার সেই VIDEO ফের VIRAL

সাপে কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন—এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বীকৃত সত্য। কিন্তু ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির একটি পুরনো ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, সাপে কামড়ানো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার দরকার নেই। তার বদলে তাঁকে ফুরফুরাতে নিয়ে গেলে তিনি নিজে থুতু লাগিয়ে রোগীকে সুস্থ করে দেবেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ত্বহা সিদ্দিকির বিতর্কিত মন্তব্য
২০২১ সালের ওই ভিডিওতে ত্বহা সিদ্দিকিকে বলতে শোনা যায়, “আপনার এলাকায় কেউ বিষাক্ত সাপে কামড়ালে দেরি করবেন না। হাসপাতালে নেবেন না, দ্রুত ফুরফুরাতে নিয়ে আসুন। আমি থুতু লাগিয়ে দেব, বিষ কেটে যাবে।” তিনি আরও বলেন, দেরি হলে অন্য কেউ দংশিত স্থানে থুতু লাগাতে পারেন, তবে শর্ত হলো—তার অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। এই দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

চিকিৎসকদের সতর্কতা
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই বক্তব্যকে বিজ্ঞানবিরোধী ও বিপজ্জনক আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, বিষধর সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টি-ভেনম দেওয়াই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। বিশেষজ্ঞরা জানান, সঠিক পদ্ধতি হলো:

দংশিত স্থান স্থির রাখা: রোগীকে নড়াচড়া থেকে বিরত রাখতে হবে, যাতে বিষ শরীরে দ্রুত ছড়াতে না পারে।
ব্যান্ডেজের ব্যবহার: আক্রান্ত অঙ্গে হালকাভাবে কাপড় বেঁধে রাখতে হবে, তবে চাপ দেওয়া যাবে না।
হাসপাতালে স্থানান্তর: দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টি-ভেনম প্রয়োগ করতে হবে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, দংশিত স্থান কাটা, চুষে বিষ বের করা বা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা বিপজ্জনক। তারা জানান, বিষধর সাপের কামড়ের ১০০ মিনিটের মধ্যে অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া গেলে রোগী বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার
ত্বহা সিদ্দিকির এই দাবি শুধু বিজ্ঞানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, এটি মানুষের জীবনের জন্যও হুমকি। একজন চিকিৎসক বলেন, “সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতালের বদলে ধর্মীয় স্থানে নিয়ে গেলে রোগী মারা যেতে পারেন। এ ধরনের পরামর্শ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।” বিশেষজ্ঞরা জনসাধারণকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, ধর্মীয় নেতাদের এমন ভুল তথ্য ছড়ানো সাধারণ মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা কুসংস্কার ছড়ানোর চেষ্টা। বিজ্ঞানের যুগে এমন কথা মানা যায় না।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “ধর্মের নামে জীবন নিয়ে খেলা বন্ধ হওয়া উচিত।”

জনসচেতনতার প্রয়োজন
এই ঘটনা ফের প্রমাণ করে, সাপের কামড় নিয়ে কুসংস্কার এখনও সমাজে রয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানান, ভারত ও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রতি বছর সাপের কামড়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যান, যার বড় কারণ দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়া। ত্বহা সিদ্দিকির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির এমন বক্তব্য এই সমস্যাকে আরও জটিল করতে পারে।

সমালোচকরা বলছেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং কুসংস্কার দূর করতে শিক্ষা ও সঠিক তথ্যের প্রচার জরুরি। সাপে কামড়ানোর মতো গুরুতর বিষয়ে শুধুমাত্র চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর ভরসা রাখাই নিরাপদ পথ।