“ট্রেনে আত্মঘাতী জ্যাকেট পরে বসে আছে BLA বোমারুরা”- যাত্রীদের উদ্ধারে বেকায়দায় পাকিস্তান সেনা

পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন ছিনতাইয়ের ঘটনায় উত্তেজনা তুঙ্গে। বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এখনও ট্রেনটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। বন্দিদের মুক্ত করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও, বিএলএ-র আত্মঘাতী বোমারুদের উপস্থিতির কারণে অভিযানটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
মানব ঢাল ও আত্মঘাতী বোমারু: সেনাবাহিনীর সামনে চ্যালেঞ্জ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএলএ বিদ্রোহীরা বন্দিদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। হামলাকারীদের মধ্যে আত্মঘাতী বোমারুরা রয়েছে, যারা আত্মঘাতী জ্যাকেট পরে বন্দিদের সঙ্গে মিশে আছে। এই পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযানে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানিয়েছেন, “ট্রেনের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক। আত্মঘাতী বোমারুদের উপস্থিতি অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলেছে।”
এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ১৫৫ জন যাত্রীকে বিএলএ-র বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে, অভিযানে ২৭ জন বালুচ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে বিএলএ এখনও ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি।
বিএলএ-র আল্টিমেটাম ও হুমকি
বিএলএ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। তারা হুমকি দিয়েছে যে, প্রতি ঘণ্টায় ১০ জন বন্দিকে হত্যা করা হবে যদি সেনাবাহিনী ড্রোন হামলা বা গোলাবর্ষণ অব্যাহত রাখে। এই হুমকির কারণে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। বিএলএ-র একটি সূত্র দাবি করেছে যে, তারা আফগানিস্তানে অবস্থানরত তাদের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
হামলা কীভাবে হলো?
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে। জাফর এক্সপ্রেস কোয়েটা থেকে পেশোয়ারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল সকাল ৯টায়। ট্রেনটি দুপুর ১:৩০ মিনিটে সিব্বিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বোলানের মাশফাক টানেলে পৌঁছানোর সময় হামলার শিকার হয়। এই এলাকাটি পাহাড়ি ও দুর্গম, যেখানে ১৭টি টানেল রয়েছে। ট্রেনের গতি কমে যাওয়ার সুযোগে বিএলএ ৮ নম্বর টানেলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর ফলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়।
চলমান অভিযান ও উত্তেজনা
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বন্দিদের মুক্ত করতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। তবে আত্মঘাতী বোমারুদের উপস্থিতি এবং মানব ঢালের ব্যবহার অভিযানটিকে বাধাগ্রস্ত করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী জিম্মিদের জীবন রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে।
এই ঘটনা বালুচিস্তানে বিএলএ-র ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাতের আরেকটি উদাহরণ। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ও এই ঘটনার দিকে নজর রাখছে।