প্রাইভেট স্কুলে আকাশছোঁয়া ফি-তে লাগাম? BIG STEP নিতে চলেছে রাজ্য সরকার

বেসরকারি স্কুলগুলির অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। মঙ্গলবার বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ঘোষণা করেছেন, অভিভাবকদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন কমিশন গঠন করা হবে। এই বিষয়ে দ্রুত একটি বিল বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক, সরকারের প্রতিশ্রুতি
মঙ্গলবার বিধানসভায় এক বিজেপি বিধায়ক বেসরকারি স্কুলগুলির অত্যধিক ফি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “আমাদের কাছে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। স্কুলগুলি বাড়তি ফি, অতিরিক্ত খরচের চাপ এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার জন্য অভিভাবকদের ওপর অযথা বোঝা চাপাচ্ছে। এই পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে রাজ্য সরকার বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ন্ত্রণে একটি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি বিল আনা হবে।”
পুরনো প্রতিশ্রুতি, নতুন উদ্যোগ
এর আগেও ২০২৩ সালের অগাস্টে শিক্ষামন্ত্রী একই ধরনের কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এবার বিধানসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফের সেই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করলেন ব্রাত্য বসু। তিনি আরও জানান, বাংলা মাধ্যম স্কুলের চাহিদা কমে যাওয়ায় অভিভাবকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বেসরকারি স্কুলগুলিতে ছাত্রসংখ্যা বাড়ছে এবং ফি বৃদ্ধির সমস্যাও তীব্র হচ্ছে।
হাইকোর্টের ভর্ৎসনা ও সরকারের দায়বদ্ধতা
২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট বেসরকারি স্কুলের ফি বৃদ্ধি নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিল। বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, “কেন স্কুলের ফি বৃদ্ধির উপর কোনো নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই?” একইসঙ্গে, সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর সরকারের উপর চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কমিশনের ভবিষ্যৎ ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা
বেসরকারি স্কুলগুলির অতিরিক্ত মুনাফাখোর মনোভাব রুখতে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। তবে নতুন বিল কার্যকর হলে অভিভাবকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন সবার দৃষ্টি এই দিকে, সরকার তার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধে কঠোর নীতি ও তার সঠিক প্রয়োগ জরুরি। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এই কমিশন কী ভূমিকা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।