চলে তুমুল লড়াই, জঙ্গল দখলে পেরে উঠতে না পেয়ে দাঁতালের আঘাতে মৃত্যু মাকনা হাতির

জঙ্গলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রাণ গেল এক মাকনা হাতির। রবিবার দুপুরে কার্শিয়াং বনবিভাগের বাগডোগরা টিপুখোলা জঙ্গলে ওই হাতির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে বন দফতর। হাতির দেহে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন থাকায় বন আধিকারিকদের ধারণা, জঙ্গল দখল নিয়ে দাঁতাল হাতির সঙ্গে ভয়ংকর লড়াইয়ে হেরে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে মাকনা হাতিটির।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর চারটে নাগাদ দু’টি হাতির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লড়াই চলতে থাকে। সিঙ্গিঝোরা চা বাগানের পিছনের হুরুলিয়া এলাকায় পৌঁছে লড়াই চরম আকার নেয়। প্রবল লড়াইয়ে এলাকায় বেশ কিছু গাছপালা ভেঙে পড়ে। শেষে মাকনা হাতিটি দাঁতালের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

সকালে মৃত হাতিটিকে দেখতে পেয়ে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বাগডোগরা রেঞ্জের বনকর্মী ও এলিফ্যান্ট স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটির দেহ উদ্ধার করে। পশু চিকিৎসকদের একটি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর বন দফতরের তরফে হাতিটির শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়।

এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বন দফতর ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কারণ, লড়াইয়ে জয়ী দাঁতাল হাতিটি আবার ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বন দফতর নজরদারি আরও জোরদার করেছে। কার্শিয়াং বন বিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানিয়েছেন, “দাঁতাল হাতিটির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বনকর্মীরা সতর্ক রয়েছে এবং নিয়মিত টহল দিচ্ছে।”

এদিকে, কার্শিয়াং বনবিভাগের বামনপোখড়ি রেঞ্জের লামাগুম্বা জঙ্গলে রবিবার আরও এক হাতির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বন দফতরের অনুমান, ওই হাতিটি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এই দুই ঘটনায় উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে হাতিদের মধ্যে চলা সংঘর্ষ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বন দফতর ও স্থানীয় মহলে।