“প্রধানমন্ত্রী যা করেছেন, একদম ঠিক করেছেন”- মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ উর্বশী রাউতেলা

বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলা সম্প্রতি নিজেকে ‘পাহাড়ি কন্যা’ হিসেবে দাবি করে জানিয়েছিলেন, পাহাড়ের মেয়ে হওয়ার কারণেই তার চেহারায় কোনও ছুরি-কাঁচির স্পর্শ নেই। এবার তার জন্মভূমি উত্তরাখণ্ড চলচ্চিত্র শুটিংয়ের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে চলেছে। সম্প্রতি হর্ষিল উপত্যকায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘোষণা করেছেন, যা নিয়ে উর্বশীও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী হর্ষিলে বলেন, “উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে এই রাজ্যকে চলচ্চিত্র শুটিংয়ের একটি প্রধান স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” এই ঘোষণার পর থেকেই উত্তরাখণ্ডবাসী ও চলচ্চিত্র জগতের মধ্যে উৎসাহের জোয়ার দেখা যাচ্ছে।
উর্বশীর উচ্ছ্বাস
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে উর্বশী রাউতেলা বলেন, “উত্তরাখণ্ড আমার জন্মভূমি। এই রাজ্য আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা একেবারে সঠিক। এখানে অপরূপ সৌন্দর্য আর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে, যা চলচ্চিত্র শুটিংয়ের জন্য আদর্শ।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখানে বরফে ঢাকা পাহাড় থেকে শুরু করে সবুজ উপত্যকা—সবই রয়েছে। তাই এই অঞ্চল ছবির শুটিংয়ের জন্য অসাধারণ। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় যাতায়াতের জন্য আবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে।”
শুধু শুটিং নয়, কর্মসংস্থানও
উর্বশী মনে করেন, এই উদ্যোগ শুধু চিত্রপরিচালকদের উত্তরাখণ্ডে আকৃষ্ট করবে না, বরং রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, “উন্নত পরিকাঠামো ও সরকারি সমর্থনের ফলে এখানকার স্থানীয় কলাকুশলী ও শিল্পীরা কাজের সুযোগ পাবেন। আঞ্চলিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও এটি বড় পদক্ষেপ।”
উত্তরাখণ্ডের সম্ভাবনা
উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। এবার এই রাজ্য চলচ্চিত্র জগতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই রাজ্যে রয়েছে বরফে ঢাকা পর্বত, ঝরনা, এবং সবুজ উপত্যকা—যা যেকোনও গল্পের পটভূমি হিসেবে নিখুঁত। উর্বশী বলেন, “এই সৌন্দর্যকে পর্দায় তুলে ধরার সময় এসেছে।”
উর্বশীর গর্ব
নিজের পাহাড়ি পরিচয় নিয়ে গর্বিত উর্বশী এই উদ্যোগকে তার জন্মভূমির জন্য একটি সম্মান হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আমি পাহাড়ের মেয়ে। আমার জন্মভূমি যে এভাবে বিশ্বের সামনে আসছে, তাতে আমি গর্বিত।” প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি উত্তরাখণ্ডের উন্নয়নের নতুন দ্বার খুলবে।
এই উদ্যোগের ফলে উত্তরাখণ্ড কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যের জন্যই নয়, চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য নাম হয়ে উঠতে পারে। উর্বশী থেকে শুরু করে রাজ্যের সাধারণ মানুষ—সকলেই এই স্বপ্নের অংশীদার হতে প্রস্তুত।