ব্লাড প্রেসার সহ ৬৩টি ‘বিষ’ ওষুধ বাজারে?-নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন

গুণগত মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া ওষুধ বাজার থেকে সরাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর। সম্প্রতি সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) দেশজুড়ে ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য একটি অভিযান চালিয়েছে। এই পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, বহুল ব্যবহৃত ৬৩টি ওষুধ গুণগত মানে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামল, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ এবং বমিভাব কাটানোর ওষুধের মতো প্রতিদিনের ব্যবহার্য ওষুধ।
গুণগত মানে ফেল করা ওষুধের তালিকায় জনপ্রিয় নাম
CDSCO-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ওষুধগুলি ন্যূনতম গুণগত মানও পূরণ করতে পারেনি। এই তালিকায় এমন অনেক ওষুধ রয়েছে যা সাধারণ মানুষ নিয়মিত ব্যবহার করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর অবিলম্বে এই ওষুধগুলি বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অভিযান শুরু করেছে। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে স্টেট ডিরেক্টোরেট অফ ড্রাগস কন্ট্রোল (DDC)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই ওষুধগুলি খুঁজে বের করে তাদের বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালের ১৬টি ব্যাচ ব্যর্থ
শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই ৬৩টি ওষুধ গুণগত মান পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালের ১৬টি ব্যাচের ওষুধও রয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতাল, ওষুধ বিতরণকারী সংস্থা এবং ড্রাগ ইন্সপেক্টরদের CDSCO-র রিপোর্টটি সঙ্গে সঙ্গে সার্কুলেট করতে হবে। এর ফলে এই ওষুধগুলির বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই সরকারি ওষুধের দোকান এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলির ব্যবহার বন্ধ করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
ওষুধের দোকানে নজরদারি জোরদার
DDC-র পক্ষ থেকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ওষুধের দোকানগুলিতে কড়া নজরদারি চালাতে হবে, যাতে এই ত্রুটিপূর্ণ ওষুধগুলি বিক্রি না হয়। স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ওষুধের দোকানগুলিকে প্রতি মাসে NSQ (Not of Standard Quality) ব্যাচের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এর মাধ্যমে জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।”
জনস্বাস্থ্যের জন্য কঠোর পদক্ষেপ
স্বাস্থ্য দফতরের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, এই ঘটনা ওষুধ উৎপাদন ও বিতরণে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে আরও একবার সামনে এনেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য এই অভিযানকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে নিম্নমানের ওষুধের প্রভাব কমবে এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে আস্থা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।