“যন্ত্র দিয়ে করা হচ্ছে নির্যাতন!”-বৈদ্যুতিক এই সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণের আহ্বান করলো অ্যামনেস্টি

বিশ্বব্যাপী স্টান গান, ইলেকট্রিক শক ব্যাটনের মতো বৈদ্যুতিক শক সরঞ্জামের উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই বিষয়ে আইনত বাধ্যতামূলক একটি চুক্তি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক এই সংস্থার ‘আই কান্ট স্লিপ অ্যাট নাইট: দ্য গ্লোবাল অ্যাবিউজ অব ইলেক্ট্রিক শক ইক্যুপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, ভেনেজুয়েলা, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের জন্য এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। কারাগার, মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, অভিবাসী ও শরণার্থী ডিটেনশন সেন্টারে এই সরঞ্জামের অপব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি দেশে পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টির সামরিক, নিরাপত্তা ও পুলিশিং ইস্যু গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন জানান, “সরাসরি বৈদ্যুতিক শক সরঞ্জাম গুরুতর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।” তিনি আরও বলেন, প্রজেক্টাইল ইলেকট্রিক শক ওয়েপনস (পিইএসডব্লিউ) নির্যাতিত ব্যক্তিকে নিশ্চল করে দিতে পারে এবং এর অপব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পিইএসডব্লিউ কখনও কখনও আইনানুগ প্রয়োজনে বৈধ ভূমিকা পালন করলেও, প্রায়শই এটি অপ্রয়োজনীয় ও বৈষম্যমূলকভাবে ব্যবহৃত হয়। উইলকেনের মতে, “সরাসরি স্পর্শ করে ব্যবহৃত শক সরঞ্জাম অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা উচিত। পিইএসডব্লিউ-এর ক্ষেত্রে মানবাধিকারভিত্তিক কঠোর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সরঞ্জাম কেবল জীবনের জন্য হুমকি বা গুরুতর আঘাতের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই সরঞ্জামের ব্যবহারে মাথার খুলি, চোখ, অভ্যন্তরীণ অঙ্গে গুরুতর ক্ষতি, পোড়া, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দনের অনিয়মের মতো সমস্যা দেখা দেয়। অথচ, মানবাধিকারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এর উৎপাদন ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী কোনো প্রবিধান নেই। চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১৯৭টি কোম্পানি এই সরঞ্জাম তৈরিতে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাক্সন এন্টারপ্রাইজ জানিয়েছে, তাদের টিএএসইআর মডেল ৮০টিরও বেশি দেশে ১৮ হাজারের বেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই আহ্বান বিশ্ব নেতাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সংস্থাটি মনে করে, আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে এই সরঞ্জামের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, এই প্রস্তাবে বিশ্ব সম্প্রদায় কীভাবে সাড়া দেয়।