“পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে চেকিংয়ে আপত্তি”-শিক্ষকদের উপর হামলা, কড়া পদক্ষেপে সংসদ

পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে চেকিংয়ে আপত্তি জানিয়ে বুধবার মালদার বৈষ্ণবনগরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরীক্ষার্থীদের হাতে আক্রান্ত হতে হয় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবার কড়া পদক্ষেপের পথে। সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘটনায় জড়িত সাতজন পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনকে শনাক্ত করা গেছে। বাকিদের রোল নম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহের কাজ চলছে। শুনানির পর এই ৯ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে সংসদ।

ঘটনাটি ঘটেছে বৈষ্ণবনগর থানার চামগ্রাম হাইস্কুলে। এই কেন্দ্রে কান্দিটোলা হাইমাদ্রাসা, চর সুজাপুর হাইস্কুল এবং পারলালপুর হাইস্কুলের পরীক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছিল। বুধবার পরীক্ষা শুরুর আগে মেন গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি চালাচ্ছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। সংসদের নির্দেশ মেনেই এই প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু তাতে আপত্তি জানায় পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ।

অভিযোগ, এরপরই উত্তেজিত হয়ে ওঠে ওই পরীক্ষার্থীরা। তারা স্টাফ রুমে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি একজন বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষিকাকেও মারধর করা হয়। তাঁর হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় বুধবারই সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “পরীক্ষার সময় চেকিং একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। আমাদের ২ হাজার ৮৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন ঘটনা কোথাও ঘটেনি। শুধু এখানেই এমনটা হল। আমরা এসব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।”

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংসদ তথ্য যাচাই করে শুনানির আয়োজন করবে, যেখানে সব পক্ষ উপস্থিত থাকবে। প্রয়োজনে পুরো পরীক্ষা বা শুধু ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংসদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর।