সরকারি স্কুলগুলিতে তৈরী হবে ‘বাটারফ্লাই পার্ক’, প্রজাপতির সংখ্যা বাড়াতে বড় উদ্দ্যেগ রাজ্য সরকারের

বাংলায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য উন্নয়নের লক্ষ্যে এবার সরকারি স্কুলগুলিতে তৈরি হবে ‘বাটারফ্লাই পার্ক’ বা ‘প্রজাপতি পার্ক’। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু পরিবেশ রক্ষা হবে না, পড়ুয়াদের জন্য নতুন শিক্ষার সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এ ধরনের ‘বাটারফ্লাই পার্ক’ বা ‘প্রজাপতি পার্ক’ বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার অংশ হিসেবে গড়ে উঠছে, এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাতেও কিছু সরকারি স্কুলে এই পার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রজাপতির সংখ্যা বৃদ্ধি হবে, যা ফুল-ফলের পরাগমিলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রজাপতির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
রাজ্য জীববৈচিত্র্য পর্ষদ জানাচ্ছে, সরকারি স্কুলগুলির মধ্যে এই পার্ক তৈরি হলে প্রজাপতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সহজেই জানতে পারবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রজাপতির প্রজনন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে নানা তথ্য গল্পের মাধ্যমে পড়াবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবিজ্ঞান শিক্ষার সঠিক মঞ্চ তৈরি হবে, যা স্কুলপড়ুয়াদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলার ৮৪টি স্কুলে ‘বাটারফ্লাই পার্ক’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত জেলার স্কুলগুলিতে এই পার্কগুলি গড়ে উঠবে, কারণ সেখানকার জমি উপলব্ধ রয়েছে। কলকাতার স্কুলগুলিতে জমির অভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে, যেসব সরকারি প্রাথমিক এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে জমি রয়েছে, সেগুলিতেই এই পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য পর্ষদের চেয়ারম্যান হিমাদ্রিশেখর দেবনাথ জানান, “প্রজাপতির সংরক্ষণে দুটি ধরনের গাছ প্রয়োজন—একটি গাছ থেকে প্রজাপতি মধু সংগ্রহ করে, অন্যটি গাছেই প্রজাপতি ডিম পাড়ে। এই দুটি গাছই স্কুলের আঙিনায় লাগানো হবে, যা প্রজাপতির প্রজনন বাড়াবে।”
প্রজাপতি পার্কের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের শিক্ষার পাশাপাশি, এর সৌন্দর্যও বাড়বে এবং একটি সচেতন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা পরিবেশ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্যোগী হবে।
এছাড়া, বাংলার কিছু জায়গায় ইতিমধ্যে বেসরকারি উদ্যোগে ‘বাটারফ্লাই পার্ক’ গড়ে উঠেছে, যেমন নিউটাউন ও রাজাভাতখাওয়া। তবে, সরকারি স্কুলগুলিতে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে এটি আরও বড় আকারে পরিবেশ সচেতনতায় ভূমিকা রাখবে।